‘বাংলাদেশ সার্ভার’ আসার আগে বন্ধের সুপারিশে দুশ্চিন্তায় ফ্রি ফায়ার

আপডেট : ২৯ মে ২০২১, ০২:২৬ পিএম

তরুণ প্রজন্মের কাছে রীতিমতো আসক্তিতে পরিণত হওয়া ফ্রি ফায়ার ভার্চুয়াল গেমের ডেডিকেটেড বাংলাদেশি সার্ভার আসতে যাচ্ছে ৮ জুন। তার আগে গেমটি বন্ধের সুপারিশের খবরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাংলাদেশ অঞ্চলের কর্মকর্তা এবং খেলোয়াড়েরা।

ফ্রি ফায়ারের পাশাপাশি পাবজি গেমও বাংলাদেশে বন্ধ হচ্ছে-এমন একটি খবর গতকাল থেকে চাউর হয়েছে। দেশের কয়েকটি পত্রিকার প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় গেমগুলো বন্ধের সুপারিশ করেছে।

শনিবার সকালে মন্ত্রণালয়ের একাধিক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা বলছেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের দুপুরে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা একটা সুপারিশ করেছি। মন্ত্রী মহোদয় নিজেও এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তবে গেম তো আমরা বন্ধ করতে পারব না। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।’

২০১৭ সালে ফ্রি ফায়ার গেমটি আসার পর বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ২০১৯ এবং ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশিবার ডাউনলোড হওয়া গেমের স্বীকৃতি পেয়েছে এটি। প্রতি মাসেই লাখ-লাখ গেমার যোগ হচ্ছেন এই মাধ্যমে।

বাড়তে থাকা খেলোয়াড়দের চাপে ল্যাগ ইস্যু থেকে শুরু করে ম্যাচিং এবং হাই পিং স্লো হয়ে যাচ্ছে গেমটির। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বাংলাদেশে সার্ভার আনছে কোম্পানিটি।

ফ্রি-ফায়ার গেমের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের অনেক দিনের দাবি ছিল বিশেষ সার্ভারের। ৮ জুন তাদের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে। গেম বন্ধের সুপারিশ আমাদের জন্য চিন্তার। এর সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত। আশা করছি বন্ধ হবে না। ’

ফ্রি-ফায়ার খেলোয়াড়দের বড় একটি গ্রুপের অ্যাডমিন নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ডেডিকেটেড সার্ভার আসলে বাংলাদেশ ভিত্তিক ইভেন্ট চালু হবে। আমাদের খরচ কমবে। এখন আমরা ডলার অথবা রুপিতে পে করি। তখন টাকায় করতে পারব। গেমের গতিও বাড়বে।’

আসছে পার্টনার প্রোগ্রাম: বাংলাদেশ অঞ্চলের খেলোয়াড়দের গেম থেকে আয়ের সুযোগ করে দিতে চায় মালিকানাধীন কোম্পানি গেরিনা। এ জন্য তারা বাংলাদেশে পার্টনার প্রোগ্রাম চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা সরাসরি আয় করতে পারবেন।

যদি কোনো ক্রিয়েটর তার কনটেন্টে ৮০ ভাগ ফ্রি ফায়ার সম্পর্কিত তথ্য রাখেন এবং তার যদি ইউটিউব/ফেইসবুকে ১ লাখ, টিকটকে ২ লাখ ফলোয়ার/সাবস্ক্রাইবার থাকে, তাহলে তারা পার্টনার প্রোগ্রামের আবেদন করতে পারবেন।

ফ্রি ফায়ার বিভিন্ন দেশে বড় বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করে। লাখ-লাখ টাকার পুরস্কার দেয়া হয় এসব আয়োজনে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশেও এই ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজনে আগ্রহী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত