পাবনার ঈশ্বরদীতে শাকিল প্রামানিক (৩৫) নামের এক কাপড় ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার সময় ঈশ্বরদী শহরের কলেজ রোডের রূপনগর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে ব্যবসায়ী শাকিলের মরদেহ উদ্ধার করে ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ।
নিহতের স্বজনদের দাবি, শাকিলকে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মীম খাতুন (১৯) ও শাকিলের ছোট ভাই সাব্বিরকে (২৬) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
নিহত শাকিল ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের পতিরাজপুর দুবলাচারা গ্রামের ইব্রাহিম প্রামানিকের ছেলে।
শাকিল ঈশ্বরদী বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, লাশ ময়নাতদন্ত করে শনিবার দুপুরে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনেক বিষয় সামনে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। তাই ঘটনা সম্পর্কে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
শনিবার সকালে ঈশ্বরদী থানার ওসি (তদন্ত) হাদিউল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ও শাকিলের ছোট ভাই সাব্বিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
নিহতের মামা মুলাডুলির ইউপি মেম্বার জাহিদ হোসেন তাঁরা মালিথা জানান, পতিরাজপুর গ্রামের নিজ বাড়ি ছেড়ে শাকিল প্রায় ১০ দিন আগে শহরের কলেজ রোডস্থ রুপনগর এলাকার ওই বাড়ির দোতলা ভাড়া নেন। এরপর থেকে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভাগনে শাকিলের ফোন থেকে তার স্ত্রী মীম তাকে জানান, শাকিল কি যেন খেয়েছে কথা বলছে না। এ সময় তিনি দ্রুত বাড়িওয়ালার সহযোগিতায় পাশের হাসপাতালে নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
তিনি আরও বলেন, আমি দূরে থাকায় ওই এলাকার আত্মীয়-স্বজনকে ঘটনা জানালে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে দেখেন স্ত্রী মীম শায়িত শাকিলকে সামনে নিয়ে বসে কান্নাকাটি করছেন। কিন্তু শাকিল তখন মৃত।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবীর জানান, বেশ কিছু ঘটনা সামনে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রী ও ছোট ভাইকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছে। ঘটনা সম্পর্কে এখনই কোনোকিছু বলা সম্ভব নয়।
