গর্ত আর খানাখন্দে জামালপুর-কালিবাড়ী-সরিষাবাড়ী সড়ক বেহাল। জামালপুর জেলা সদরের সঙ্গে সরিষাবাড়ী উপজেলার মানুষের যোগাযোগের প্রধান সড়ক এটি। জেলা সদর থেকে ভাটারা বাজার হয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলার একাংশের সঙ্গেও যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। জেলার ‘শিল্প শহর’ হিসেবে পরিচিত সরিষাবাড়ী উপজেলায় দেশের সবচেয়ে বড় সারকারখানাসহ রয়েছে বেশ কয়েকটি পাটকল। এই সড়কের কালীবাড়ী ও ভাটারায় রয়েছে জেলার দুটি বড় বাজার। ফলে দৈনন্দিন প্রয়োজনে এই সড়কে যাতায়াত অসংখ্য মানুষের। সড়কটির বেহাল দশার কারণে ২০১৯ সালে সড়কটির সংস্কার ও প্রশস্ত করার কাজ শুরু করে জামালপুর সড়ক বিভাগ। নির্ধারিত সময় শেষে এক দফা সময় বাড়ানো হলেও নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ৫০ শতাংশ। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই পথে চলাচলকারী জামালপুর সদর, সরিষাবাড়ী ও মাদারগঞ্জ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষকে।
খলিলুর রহমান নামে এক যাত্রী বলেন, ‘রাস্তার কাম যে চলতাছে চলতেই আছে। কাম আর শেষ হয় না। রাস্তার কাম শেষ হওয়ার আগে মনে হয় এই রাস্তায় চলাচল করতে করতে জানই শেষ হইয়া যাবে।’
অটোরিকশাচালক শাহেদ আলী বলেন, ‘ভাঙাচোরা রাস্তার জন্য নতুন গাড়ি ৬ মাসেই নষ্ট হইয়া যায়। গাড়িত একটা রোগী উঠলে জামালপুর হাসপাতালে নেওনের আগে রাস্তার ঝাঁকিতেই রোগীর অবস্থা কাহিল হইয়া পড়ে। আধা ঘণ্টার রাস্তা দেড়/দুই ঘণ্টাতেও যাওন যায় না।’
সরিষাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা আহাদ আলী বলেন, রাস্তায় খানাখন্দের কারণে এই সড়কে কোনো ট্রাক যেতে চায় না। সরিষাবাড়ী থেকে দিগপাইত হয়ে বিকল্প সড়কে জামালপুর থেকে পণ্য পরিবহনে কয়েকগুণ খরচ বেড়ে যায়।
জামালপুর সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সড়ক বিভাগের একটি প্রকল্পের আওতায় দুটি প্যাকেজে ১৬ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়কের প্রস্থ ১২ ফুট থেকে বাড়িয়ে ২৪ দশমিক ৬ ফুট করা ও সংস্কারে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৭০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। দুটি প্যাকেজেরই কাজ পায় ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লি. নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ শুরুর পর ১৮ মাস অর্থাৎ গত বছরের ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল তাদের। নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলে এ বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয় কাজের মেয়াদ। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ সড়কের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ।
ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লি.’র ব্যবস্থাপক আবদুল গণি বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে অনেক এলাকায় আমরা এখনো কাজ শুরুই করতে পারিনি। ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ায় কাজ করতে গেলে অনেক জায়গায় স্থানীয়রা বাধা দেয়। এ ছাড়া সড়কের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় মাটি না পাওয়ায় সময়মতো কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।’
জামালপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ কাজ হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে কাজটি সময়মতো সম্পন্ন করা যায়নি। ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। আশা করছি অতিদ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হবে। প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
