কুমিল্লায় গোমতী নদীর দুই পাড়ে বিস্তীর্ণ চরের মাটি ভেকু মেশিন (এক্সকাভেটর) দিয়ে অবৈধভাবে কেটে নিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এক মাস ধরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ড্রেজার মেশিন জব্দ ও ধ্বংস করার পর ওই চক্রটি গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ভেকু মেশিন দিয়ে চরের মাটি কেটে নিচ্ছে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোমতী নদীর বালুমহাল এখন আর ইজারা দেওয়া হয় না। গত চৈত্র মাসেই ইজারা বাতিল হয়েছে। গোমতী নদী রক্ষায় সরকারের নির্দেশনায় চলতি বছর বালুমহাল আর ইজারা দেওয়া হয়নি। গত বৈশাখ মাস থেকে যারা বালু তুলছে, তারা সবাই অবৈধভাবে তুলছে। তারা বালু তোলার নামে কৃষকের ফসলী জমি জোর করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
গত রবিবার সরেজমিন দেখা গেছে, গোমতী নদীর সীমান্ত এলাকার গোলাবাড়ি, চান্দপুর, শালধার, টিক্কাচর, পাঁচথুপি, পালপাড়াসহ ২০টি স্থানে অর্ধশতাধিক ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে গোমতী নদী এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাইদ দেশ রূপান্তরকে জানান, ইজারা না থাকায় গোমতী নদীর দুই পাড়ের মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন করা যাবে না। গোমতী নদীর চরের এক কৃষক বলেন, ‘পুলিশের লোকজন এলে ওরা সরে যায়, এখন মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত বড় বড় মেশিন দিয়ে চরের ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।’
স্থানীয়রা জানান, রাত ১২টার পর থেকে শত শত ড্রাম ট্রাকের শব্দে ঘুমানো যায় না। ভোর পর্যন্ত চলে গোমতীর চরের মাটি কাটা। ভেকু মেশিন দিয়ে চরের মাটি কেটে গোমতী নদীকে ক্ষত-বিক্ষত করা হচ্ছে।
গোলাবাড়ি জিরো পয়েন্ট থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত গোমতী নদীর ৫৫ মাইল এলাকার সব ড্রেজার ও ভেকু মেশিন ধ্বংস করার জন্য জেলা প্রশাসনকে মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন কুমিল্লা সদর আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার সঙ্গে যত শক্তিশালীরাই জড়িত থাকুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গোমতী নদী রক্ষা ও গোমতীর চরের কৃষকের জমি নষ্ট করতে দেওয়া হবে না। মাটি কেটে এবং বালু তুলে কৃষি জমির ওপর রেখে কৃষকের ফসল উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা এখানে ফসল উৎপাদন করতে পারছেন না। তিনি জানান, ডিসির চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গোমতী নদীর বালুমহালের ইজারা ইতিমধ্যে বাতিল করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
