তুরস্ক যে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে তা সিরিয়ায় দেশটির অবস্থান দেখেই আঁচ করা যাচ্ছিল। পাশাপাশি মিত্র দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার পর অনেকটাই স্পষ্ট হয় যে, তুরস্ক বৈশ্বিক রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে চাইছে। গত মঙ্গলবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের কণ্ঠে সেই সুরই শোনা গিয়েছে বলে মত অধিকাংশ বিশ্লেষকের।
এরদোয়ান মঙ্গলবার সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তুরস্ককে কোণঠাসা করার চেষ্টা করে, তবে ওয়াশিংটন তার অত্যন্ত ভালো এক বন্ধুকে হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাতের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এরদোয়ানের কাছ থেকে এমন সতর্কীকরণ মন্তব্য এলো। আগামী ১৪ জুন ব্রাসেলসে সামরিক জোট ন্যাটোর সম্মেলনের ফাঁকে বাইডেন ও এরদোয়ান বৈঠকে মিলিত হবেন। এটি হবে এ দুই নেতার মধ্যে প্রথম বৈঠক।
ন্যাটোর দুই সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্কে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে আরও অবনতি হয়। বিশেষ করে তুরস্কের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বাইডেন সরব হওয়ায় তার প্রভাব সম্পর্কে পড়েছে। বাইডেন ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। কিন্তু তিনি এরদোয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে প্রায় তিন মাস সময় নেন।
সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস হামলার ইস্যুতে বাইডেনকে আক্রমণ করেন এরদোয়ান। ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে বাইডেন তার হাত রক্তাক্ত করেছেন বলে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেন। বাইডেনের উদ্দেশে এরদোয়ান বলেন, ‘আপনি আপনার রক্তাক্ত হাত দিয়ে ইতিহাস লিখছেন।’ সে সময় বাইডেনের উদ্দেশে এরদোয়ান আরও বলেন, ‘এ কথা বলতে আপনি আমাদের বাধ্য করেছেন। কারণ, আমরা এ নিয়ে আর চুপ থাকতে পারি না।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর এরদোয়ানের কাছ থেকেই সবচেয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণের শিকার হন বাইডেন। মঙ্গলবার এরদোয়ান তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিআরটিতে একটি সাক্ষাৎকার দেন। তার কাছে আঙ্কারা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যারা তুরস্ক প্রজাতন্ত্রকে কোণঠাসা করছে, তারা অত্যন্ত ভালো এক বন্ধু হারাবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের উত্তেজনা সৃষ্টির একাধিক কারণ সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন এরদোয়ান। তার মধ্যে অন্যতম হলো আর্মেনিয়ান গণহত্যাকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি প্রদান।
