ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাকরাইল (বলারজোড়) এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে নির্মাণাধীন ব্রিজের অ্যাপ্রোচ গার্ডার স্থাপনে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সাকরাইল বাজার, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীমন্তকাঠি বালিকা বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সহজতম এই পথের ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করায় এ অ্যাপ্রোচ সড়কের নির্মাণকাজে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজাপুর সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী সাকরাইল বাজার থেকে শ্রীমন্তকাঠি এলাকায় যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এ সড়কের উপর (সাকরাইল বাজার সংলগ্ন) দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজের নির্মাণকাজ চলছে।
শুরু থেকে ব্রিজের কাজ মোটামুটি হলেও শেষে অ্যাপ্রোচ সড়কের গার্ডার নির্মাণকাজে ফাঁকি দেয়া শুরু হয়। গার্ডারের জন্য নির্মিত ব্লক খুবই নিম্নমানের। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরাতে গেলেই তা ভেঙে যায়।
স্থানীয়রা আরও বলেন, স্লাবের মধ্যে বিন্দুমাত্র কোনো সুরকি, খোয়া এবং রডের ব্যবহার করা হয়নি। তা ছাড়া কোনো কোনো জায়গায় স্লাব না বসিয়েই বসানো হচ্ছে পিলার। স্থানীয়রা বাধা দিলেও শ্রমিকরা তাদের মতো করে কাজ চালাতে চেষ্টা করলে জনতার তোপের মুখে ব্রিজের কাজের পরিদর্শক ও লেবার সরদার আশিষ পালিয়ে যান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির হোসেন বলেন, ব্রিজের অ্যাপ্রোচ গার্ডার নির্মাণের জন্য স্থানীয় বাজারের মধ্যে দুটি বড় শেড দখল করে স্লাব তৈরি করা হয়। স্লাবের মান খুবই নিম্নমানের করার ফলে বাজার থেকে ব্রিজের কাছে স্থাপনের জন্য নিতেই প্রতিটি স্লাব ভেঙে পড়ে। প্রয়োজন অনুপাতে খুবই সামান্য সিমেন্ট দিয়ে বানানো স্লাবের মধ্যে খোয়া বা রডের কোনো অস্তিত্ব নেই।
লেবার সরদার আশিষ বলেন, ঠিকাদারের স্টিমিটের বাইরে আমার কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। আপনারা ঠিকাদারের সাথে কথা বলেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদার বাদল বলেন, ব্রিজ নির্মাণকাজে কোনো ভুল হয়নি। স্লাব তৈরিতে মিস্ত্রিদের গাফিলতিতে হয়তো কিছু ব্লকের মান খারাপ হয়েছে। এটা এমন কোন ব্যাপার না।
ঝালকাঠির স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী রহুল আমীন বলেন, ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়কের স্লাবের মান খারাপ হয়েছে এমন কোনো অভিযোগ কেউ করেনি। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব। কাজের মান খারাপ করলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
