কর নিয়ে কড়াকড়ি

আপডেট : ০৫ জুন ২০২১, ১১:২৪ পিএম

অল্প কয়েক দিন পরেই লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর জোট জি-৭-এর সম্মেলন। এবারের সম্মেলনের নিরাপত্তায় জোটটি প্রায় ৭ কোটি ইউরো ব্যয় করলেও তারাই এবার বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর আরও কর আরোপ করতে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে বিবিসি। ধারণা করা হচ্ছে, এই সম্মেলন থেকে ‘গ্লোবাল মিনিমাম ট্যাক্স রেট’ ঠিক করা হতে পারে। জার্মান অর্থমন্ত্রী ওলাফ শল্টজ মনে করেন, শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে এই চুক্তি হলে তা বিশ্ব পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ওলাফ বিবিসিকে বলেন, ‘ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ওই ১৫ শতাংশ রেট খুব কাজে দেবে, বিশেষ করে এই মহামারীর সময়ে। আমরা আশাবাদী যে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।’ তবে এই চুক্তি শুধু মহামারীর সময়ের জন্য নাকি মহামারীপরবর্তী সময়েও কার্যকর থাকবে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। তার মতে, ‘করপোরেটদের জন্য আমরা ন্যূনতম কর আরোপের ক্ষেত্রে একমত হতে পারি, তাহলে আজকাল আমরা কর নিয়ে যে প্রতিযোগী পরিবেশ দেখতে পাচ্ছি তার অবসান হবে। এতে যেসব দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অতটা ভালো নয়, তারা উপকৃত হবে। করোনা মহামারী মোকাবিলায় তারা ওই অর্থ ব্যয় করতে পারবে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারবে সরকারগুলো। একই সঙ্গে ভঙ্গুর অর্থনীতিও পুনরুদ্ধার হবে।’

ফরাসি অর্থমন্ত্রী ব্রুনো লী মারি আয়ারল্যান্ডের ব্যাপারে কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করেন। কারণ, ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে আয়ারল্যান্ডে করপোরেট কর সবচেয়ে কম, যা মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। তিনি বলেন, ‘ইউরোপের দেশগুলো অতীতে নতুন আন্তর্জাতিক কর ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছে তাদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে এই চুক্তি বড় ধরনের সুযোগ উন্মোচন করবে।’ চুক্তিটি স্বাক্ষর হলে অ্যামাজন, মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানিগুলোকে করের আওতায় আনা যাবে। দুই মন্ত্রীই বলেছেন, সর্বনিম্ন করের হারই চুক্তিটির মূল বোঝাপড়ার বিষয়। ফরাসি অর্থমন্ত্রী লে মাইরে মনে করেন ১৫ শতাংশ করই শুরুর বিন্দু হবে। তিনি বলেন, ‘যদি বেশি হতে পারে তবে ভালোই হবে কিন্তু ১৫ শতাংশ করই সর্বনিম্ন হতে হবে।’ জার্মান অর্থমন্ত্রী মনে করেন, ১৫ শতাংশ করই কার্যকর হবে। বিগত কয়েক দশক ধরে ভিন্নদিকে যাওয়ার পর এই হারে কর আরোপ একটা ভালো শুরু হবে বলে জানান তিনি।

গত শুক্রবার লন্ডনে জি-৭ অর্থমন্ত্রীদের দুই দিনের বৈঠক শুরু হয়েছে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর কর আরোপসহ তারা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা করবেন। জি-৭-এর সম্মেলন শুরুর আগেই জোটভুক্ত দেশগুলো নিজেদের মধ্যে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন কর রেট ধার্যের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। তবে বিশ্লেষকরা শঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই চুক্তির পরও যদি জি-৭ভুক্ত দেশগুলো ন্যূনতম ১৫ শতাংশ কর ধার্য না করে, তাহলে এই সুযোগ লুফে নেবে চীন। যুক্তরাজ্য এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারত। কিন্তু ব্রেক্সিটের পর দেশটি নিজেদের অর্থনীতি চাঙ্গার উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যেই কর রেটে পরিবর্তন এনেছে। করপোরেট কর বৃদ্ধি করার খেসারত তাদের বিগত নির্বাচনে দিতে হয়েছিল। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই জি-৭-এর নতুন এই করহার এড়িয়ে যেতে পারে যুক্তরাজ্য। আর এমনটা হলে আন্তর্জাতিক করপোরেট করহার নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত