ভ্যাকসিনের দুই ডোজের মধ্যে কম ব্যবধান বেশি কার্যকরী

আপডেট : ০৫ জুন ২০২১, ১১:২৬ পিএম

সারা বিশে্ব করোনা মহামারী থেকে বাঁচতে ভ্যাকসিনের ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিন কার্যক্রম বেশ সফলভাবেই চলছে বলা যায়। ইতিমধ্যে বিশে^র অন্তত ১৭৬টি দেশ ও অঞ্চলে মোট ২০০ কোটির বেশি ডোজ ভ্যাকসিন বিতরণ হয়েছে। এখন পর্যন্ত পুরোপুরি ভ্যাকসিনের আওতায় আনা গেছে বৈশি্বক জনসংখ্যার ১৩ দশমিক ২ শতাংশ মানুষকে। তবে ভ্যাকসিন প্রদানে ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে ধনী-দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে। দরিদ্রদের তুলনায় বিশে^র ধনী অঞ্চলগুলোতে ভ্যাকসিন কার্যক্রম অন্তত ৩০ গুণ দ্রুত চলছে। এদিকে ফাইজারের তৈরি ভ্যাকসিন নিয়ে নতুন গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেটের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের মূল স্ট্রেনের তুলনায় করোনার ভারতীয় ধরন বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে ফাইজারের ভ্যাকসিন অনেকটাই কম কার্যকর। গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা এই ভ্যাকসিনের একটি ডোজ পেয়েছেন বা দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান দীর্ঘ, তাদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি কম কাজ করছে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবডি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে বলে মন্তব্য করেছে ল্যানসেট।

ফাইজারের প্রথম ডোজের পর ৭৯ শতাংশ মানুষের দেহে মূল স্ট্রেনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে পারে। কিন্তু বি.১.১.৭ বা আলফা ভ্যারিয়েন্টের জন্য এটাই কমে হয়ে যায় ৫০ শতাংশ। আর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের জন্য তা হয় ৩২ শতাংশ। বিটা ভ্যারিয়েন্ট বা বি.১.৩৫১-এর ক্ষেত্রে এর মাত্রা ২৫ শতাংশ। এই বিটা ভ্যারিয়েন্ট প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হয়েছিল। গবেষকরা বলছেন, মানুষকে হাসপাতাল থেকে দূরে রাখতে যতটা সম্ভব ভ্যাকসিন প্রক্রিয়া দ্রুত করা প্রয়োজন। লেগেসি স্টাডির শীর্ষ ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ফেলো এবং ইউসিএলএইচ ইনফেকশাস ডিজিজ কনসালট্যান্ট এমা ওয়াল বলেছেন, এ থেকে রক্ষা পাওয়ার একটাই উপায়। দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনা। এ ছাড়া যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব বেশি নয়, তাদের ক্ষেত্রে বুস্টার ডোজ প্রয়োগ করার কথাও বলেছেন তিনি। ভারতে কোভিশিল্ডের দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। বর্তমানে কোভিশিল্ডের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের মধ্যে ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহ ব্যবধান থাকছে। আগে এই সময় ছিল ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পায়। যদিও সমালোচকদের অভিযোগ, সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাকসিন নেই। সে কারণেই ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবধানকে আরও বাড়ানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত