পরিবেশের প্রতি উদাসীনতা নয়

আপডেট : ০৭ জুন ২০২১, ১১:৪১ পিএম

দুনিয়াকে আল্লাহতায়ালা মানুষের বসবাসের উপযোগী করে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের কল্যাণ ও জীবন ধারণের প্রয়োজনে পরিবেশ এবং যাবতীয় উপাদান নিয়ামত হিসেবে দান করেছেন। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে, ‘জমিনে যা কিছু আছে সব কিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।’ সুরা বাকারা : ২৯

কিন্তু মানুষের বিবেকহীন প্রকৃতি বিদ্বেষী নানাবিধ কর্মকাণ্ড পরিবেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এতে করে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য, হারিয়ে যাচ্ছে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত প্রকৃতির সৌন্দর্য। ইসলাম পরিবেশের প্রতি ব্যাপক গুরুত্বারোপ করেছে। মানুষের জন্য কোন পরিবেশ উপযোগী, কোন পরিবেশে মানুষ সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারবে ইসলাম তা সুনিশ্চিত করেছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর ঘোষণা, ‘জমিনকে আমি বিস্তৃত করেছি এবং তাতে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছি। আর তাতে উৎপন্ন করেছি সব প্রকার বস্তু সুনির্দিষ্ট পরিমাণে। আর তাতে তোমাদের জন্য এবং তোমরা যার রিজিকদাতা নও তাদের জন্য রেখেছি জীবনোপকরণ। আর প্রতিটি বস্তুরই ভা-ারসমূহ রয়েছে আমার কাছে এবং আমি তা অবতীর্ণ করি কেবল নির্দিষ্ট পরিমাণে। আর আমি বায়ুকে উর্বরকারীরূপে প্রেরণ করি অতঃপর আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করি এবং তা তোমাদের পান করাই। তবে তোমরা তার সংরক্ষণকারী নও।’ সুরা আল হিজর : ১৯-২২

বর্তমানে পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে বিশ্ববাসী উৎকণ্ঠিত। বিজ্ঞানীরা নিরন্তর গবেষণা করে যাচ্ছেন, কীভাবে পরিবেশ সংরক্ষণ করে পৃথিবীকে ধ্বংসের কবল থেকে রক্ষা করা যায়। কিন্তু পরিবেশ সংরক্ষণে যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি দরকার তা হচ্ছে সৃষ্টির প্রতি আমাদের সচেতনতাবোধ। কিন্ত আদৌ কি এই সচেতনতাবোধ আমাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে? সৃষ্টির সেরা জীব হয়েও আমরা পরিবেশ দূষণে মত্ত। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন ও পাহাড় কেটে সমভূমি তৈরি করছি, যেখানে সেখানে কফ-থুথু ও ময়লা-আবর্জনা ফেলছি। আমরা পানি, বায়ু, মাটি দূষণ করছি আর এর ফলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। অথচ এসব থেকে বেঁচে থাকা অত্যন্ত জরুরি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, মানুষ নিজেরাই নিজেদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার পথে অন্তরায়। পরিবেশ দূষণের ফলে নানাবিধ রোগব্যাধিতে মানুষ আক্রান্ত হয়। পরিবেশের প্রতি যতœবান ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার মাধ্যমে বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্যই প্রয়োজন সুস্থ ও মনোরম পরিবেশ। তাই আমাদের উচিত, ইসলামের আলোকে পরিবেশ সংরক্ষণে মনোযোগী হওয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত