সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে দলবদলের হিড়িক পড়ে। আর নির্বাচনের হারার পর পুরোনো ঘরে ফেরার স্রোত!
তেমন ঘরোয়া পরিবেশের বর্ণনা দিল জি নিউজ। এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিজেপি থেকে ফিরলেন সাবেক মন্ত্রী মুকুল রায়। পুরোনো সতীর্থ ফিরতে তৃণমূল ভবনে বসল জমজমাট আড্ডা।
শুক্রবার বিকেলে তৃণমূল ভবন ঘটল পুনর্মিলন। সেখানে মুড়ি মাখলেন খোদ দলনেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুড়ি সহযোগে চলল অতীতের সেই সব দিনের কথা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মমতা আসার কিছুক্ষণ পর তৃণমূলে ভবনে প্রবেশ করে মুকুল রায়ের গাড়ি। দীর্ঘ দিন পর নেত্রীকে দেখে প্রণাম করেন কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক। পায়ে হাত দিয়ে আশীর্বাদ চেয়ে নেন তার ছেলে শুভ্রাংশু রায়।
প্রায় সাড়ে ৩ বছর পর পুনর্মিলনের সাক্ষী হলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়,সুব্রত বক্সি, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাদের নিয়ে খোশমেজাজে গল্প শুরু করেন মমতা। মুকুলের শরীর ভেঙে গিয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কাঁচড়াপাড়া ছেড়ে সল্টলেকের বাড়িতে সপরিবারে থাকার জন্য মুকুলকে পরামর্শ দেন তৃণমূল নেত্রী। নির্দেশ দেন সকলে মিলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তবে রাজনীতির থেকে হালকা কথাবার্তাই বেশি হয়েছে। আড্ডায় সঙ্গত দিতে আলু ভাজা ও চিপস দিয়ে মুড়ি মাখেন মমতা।
স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট নাগাদ মুকুলকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির হন তৃণমূল নেত্রী। সাংবাদিকদের ‘তিক্ত’ প্রশ্ন থেকে ‘দিদি’র মতো আড়াল করেছেন মুকুলকে।
মমতা বলেন, “মুকুল পুরোনো পরিবারের ছেলে। চমকে-ধমকে এজেন্সি দেখিয়ে মুকুলের ওপরে কম অত্যাচার হয়নি! মুকুল নিজেও মানসিক শান্তি পেল। শরীরটা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। মুখে বলতে পারত না। বিজেপি করা যায় না। বিজেপিতে যারা আছে তাদের শোষণ এত বেশি। এত নির্দয়! মানুষকে মনুষ্যত্ব নিয়ে বাঁচতে দেয় না।”'
এ দিকে মুকুল রায়কে গাড়িতে তুলে তৃণমূল ভবন ছাড়েন অভিষেক। মুকুল আগে চলে যেতে বললেও সৌজন্য রক্ষা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
