ঋণ বাড়াতে স্বাভাবিক সময়ের অপেক্ষায় অগ্রণী ব্যাংক

আপডেট : ১২ জুন ২০২১, ১১:১৭ পিএম

আমানত সংগ্রহে নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংক। গত বুধবার ব্যাংকটির সংগৃহীত আমানতের স্থিতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে আমানতের পাশাপাশি ঋণ বিতরণ বাড়াতে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ব্যাংকটিকে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত মে মাস শেষে অগ্রণী ব্যাংকের সংগৃহীত আমানত বেড়ে ১ লাখ ৯০৩ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। অন্যদিকে ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ছিল ৫২ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আমানতের তুলনায় ঋণের পরিমাণ ৫২ শতাংশ। ঋণের অনুপাত ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে জানিয়ে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঋণ বিতরণ বাড়ানোর বিষয়ে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। তবে এ জন্য আমাদের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কেননা, বিপুল পরিমাণের এই আমানতের পুরোটাই সুদবিহীন আমানত নয়। এসব আমানতের পেছনে ব্যাংকের বড় ধরনের ব্যয় হবে।’

বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের আমানতের প্রায় ২৩ শতাংশই সরকারি খাতের। বাকি ৭৭ শতাংশ আমানতে প্রচলিত হারে সুদ দিচ্ছে ব্যাংকটি।

জানা গেছে, স্বাধীনতার পর হাবিব ব্যাংক ও কমার্স ব্যাংক একত্র হয়ে ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ অগ্রণী ব্যাংক গঠিত হয়। শুরুতে আমানত ছিল মাত্র ৯৬ কোটি টাকা।

ড. জায়েদ বখত ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন ২০১৪ সালে। তখন ব্যাংকটির আমানত ছিল ৪০ হাজার কোটি টাকার ঘরে। এই সময়ে ব্যাংকটির আমানত বৃদ্ধির কারণ হিসেবে জায়েদ বখত বলেন, উন্নত সেবা দিয়ে গ্রাহকের আস্থা অর্জনের ফলে অগ্রণীর আমানত বেড়েছে। সেবার মান বাড়াতে প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং লেনদেনে জোর দেওয়া হয়েছে।

২০১৫ সালেও জনতা ব্যাংকের অবস্থান ছিল অগ্রণীর চেয়ে ভালো। তবে কয়েকটি আর্থিক কেলেঙ্কারির খবরে পেছনে পড়ে জনতা ব্যাংক। অন্যদিকে, চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস-উল ইসলামের নেতৃত্বে অগ্রণী ব্যাংকও বেশ কিছু সূচকে এগিয়ে গেছে। গত মে মাস শেষে জনতার আমানত ছিল ৮৯ হাজার কোটি টাকা, এর বিপরীতে ঋণ ছিল ৬২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, ‘প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং সেবার দ্রুত সম্প্রসারণ ও গ্রামমুখী ব্যাংকিং কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের ফলে আমানত বাড়ছে। করোনা মহামারীর মধ্যে কখনো অগ্রণী ব্যাংকের সেবা বন্ধ হয়নি। সেবার মান উন্নত হওয়ায় গ্রাহকের আস্থাও বেড়েছে। ফলে আমানত দ্রুত বেড়েছে।’

এ নিয়ে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি আমানত সংগ্রহ করতে পারা ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াল ৩টিতে। এর আগে ২০১৬ সালে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি আমানত সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক। একইভাবে গত বছরের জুনে লাখ কোটি টাকার আমানতের ব্যাংকের তালিকায় যুক্ত হয় বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত মার্চ শেষে দেশের ৬০টি ব্যাংকে আমানত ছিল ১২ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। অন্যদিকে সোনালী, ইসলামী ও অগ্রণী ব্যাংকের সম্মিলিত আমানত এখন ৩ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে ব্যাংক আমানতের ২৭ শতাংশই এখন এ তিনটি ব্যাংকের হাতে।

সম্পদের দিক দিয়েও বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংক তৃতীয় বৃহত্তর ব্যাংক। স্বাধীনতার পর ১৩৭ কোটি টাকা মোট সম্পদ নিয়ে শুরু হয় অগ্রণীর যাত্রা। ২০২০ এর ডিসেম্বর শেষে অগ্রণীর সম্পদ বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা।

রেমিট্যান্স আহরণে সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যেও শীর্ষে অগ্রণী। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

সারা দেশে সেবা দিতে অগ্রণী ব্যাংকের ৯৬০ শাখা ও ২৮০ এজেন্ট আউটলেট রয়েছে। অগ্রণীর এমডি বলেন, ‘রেমিট্যান্সেও আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। এ লক্ষ্যে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমকে বেগবান করা হচ্ছে। গত বছরের ১৭ মার্চে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য একটি অ্যাপ চালু করি। করোনার মধ্যে ওই অ্যাপটি ব্যাপকভাবে কাজ করেছে। অ্যাপটি পরে মানিটারি অথরিটি অফ সিঙ্গাপুরের একটি আন্তর্জাতিক ফিনটেক প্রতিযোগিতায় পুরস্কারও পেয়েছে।’

অগ্রণী ব্যাংক ২০২০ সালের জুলাই মাসে রেকর্ড ৪২ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে আনে। যা অগ্রণী ব্যাংকের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ। ওই মাসে দেশের মোট রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল ৬২.৭১ শতাংশ, অন্যদিকে অগ্রণী ব্যাংকের রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫৩ শতাংশ। করোনার মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক রেমিট্যান্সের ২ শতাংশ প্রণোদনার সঙ্গে আরও এক শতাংশ প্রণোদনা যোগ করে মোট ৩ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া শুরু করে। পরে কিছু দিন এটা বন্ধ ছিল। তবে গত রমজান উপলক্ষে আবার দুই মাসের জন্য চালু হয় এই বাড়তি প্রণোদনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত