রক্তদানে সওয়াব মেলে

আপডেট : ১৩ জুন ২০২১, ১০:৪৭ পিএম

মানুষের মূল্যবান জীবন ও দেহ সুরক্ষায় রক্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য তরল উপাদান। যেকোনো দুর্ঘটনায় শরীর থেকে রক্ত ঝরে গেলে দেহের অভ্যন্তরে অন্ত্র বা অন্য কোনো অঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ হলে অস্ত্রোপচারের জন্য রক্তের খুব প্রয়োজন। প্রসবজনিত কিংবা অন্যান্য জটিল অপারেশনের সময় অথবা বড় ধরনের দুর্ঘটনার মতো নাজুক অবস্থাতেও রক্ত দেওয়া অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়ে। যেহেতু রক্তের কোনো বিকল্প  নেই তাই অন্য একজন সুস্থ সবল ব্যক্তির কাছ থেকে রক্ত নিতে হয়। সঠিক সময়ে রক্ত সংগ্রহে ব্যর্থ হয়ে অনেক রোগী মারা যান। কিন্তু চাইলেই একজন সুস্থ সবল মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদান করে একটি প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে আসতে পারেন। রক্ত দানের মতো মহৎ কাজ পৃথিবীতে খুব কমই আছে।

স্বেচ্ছায় রক্তদানে অন্য মানুষের মূল্যবান প্রাণ রক্ষা পায় এবং নিজের জীবনও ঝুঁকিমুক্ত থাকে, তাই রক্তদানের ব্যাপারে ইসলামে কোনো বিধি-নিষেধ নেই। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে।’ সুরা আল মায়িদা : ৩২

রক্তদানের সঙ্গে প্রাণ রক্ষার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একজন মানুষ রক্তদান করলে সেই রক্ত নিয়ে মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। প্রতিবছর ১৪ জুন বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রক্তদান দিবস পালিত হয়। স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান করে যারা প্রতি বছর কোটি কোটি মানুষের উপকার করেন, জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেন পর্দার আড়ালে থাকা সেসব মানুষসহ সবাইকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করাই এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য।

স্বেচ্ছায় রক্ত দান করলে তা মানুষের অনেক উপকারে আসে। আর এতে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। অন্যদিকে সামর্থ্যবান রক্তদাতাও পরোপকারের মাধ্যমে দৈহিক ও মানসিক দিক দিয়ে ইসলামি মূল্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে সুস্থ, সবল ও নিরাপদ থাকেন। এ জন্য বিশ^মানবতার উপকার ও জীবন রক্ষার্থে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘তোমাদের কেউ তার অন্য ভাইয়ের উপকার করতে সক্ষম হলে সে যেন তা করে।’ সহিহ মুসলিম

রক্তদানের মাধ্যমে একজন মানুষ অপর একজন মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করে। এর চেয়ে বড় উপকার আর কী হতে পারে! তাই সবার উচিত স্বেচ্ছায় রক্তদান করে পরোপকারে শামিল হওয়া। উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় প্রতি হাজারে প্রায় ৪৩ জন স্বেচ্ছায় রক্তদাতা। কিন্তু বাংলাদেশে এ সংখ্যা প্রতি হাজারে মাত্র তিন জন। আশার কথা হলো, বর্তমানে কিছু উদ্যমী তরুণের নিরলস পরিশ্রমের ফলে স্বেচ্ছায় রক্তদানে অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। অনলাইন ও অফলাইনে অসংখ্য স্বেচ্ছায় রক্তদান সংক্রান্ত সংগঠন গড়ে উঠেছে। এসব গ্রুপে তরুণদের স্বেচ্ছায় রক্তদানে নানাভাবে উৎসাহিত করা হয়।

সমাজে রক্তদানকে কেন্দ্র করে অনেক বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেকে মনে করেন, কাউকে রক্ত দিলে নিজের শরীরে অনেক ঘটতি হয় যা একেবারেই সঠিক নয়। বরং রক্তদান করলে বাড়তি নিজের অনেক উপকার হয়। যেকোনো সুস্থ-সবল মানুষ রক্তদান করলে, রক্তদাতার স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয় না। এমনিতেই রক্তের লোহিত কণিকাগুলো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চার মাস পর পর নষ্ট হয়ে যায়। তাই অকারণে নষ্ট করার চেয়ে তা স্বেচ্ছায় অন্যের জীবন বাঁচাতে দান করলে মানুষের জীবনও বাঁচানো যায় নিজেরও উপকার হয়। সামান্য পরিমাণে রক্তদানের মাধ্যমে একটি জীবন বাঁচানো নিঃসন্দেহে মহৎ কাজ।

নিয়মিত রক্তদান করা একটি ভালো অভ্যাস। এজন্য একটি সুন্দর মন থাকাই যথেষ্ট। রক্তদাতার শরীরের কোনো ক্ষতি তো হয়ই না, বরং নিয়মিত রক্তদান করলে বেশ কিছু উপকার পাওয়া যায়। তাই প্রত্যেক সুস্থ ও রক্তদানে সক্ষম ব্যক্তির উচিত, স্বেচ্ছায় বিনামূল্যে রক্তদান করা এবং অন্যকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত