অগ্নিপরীক্ষায় প্রেসিডেন্ট বাইডেন

আপডেট : ১৪ জুন ২০২১, ১০:৪৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ব্যাপক নাজুক অবস্থায় চলে যায়। ন্যাটোতে বার্ষিক বরাদ্দ দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার যুক্তি ছিল, ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর চেয়ে ন্যাটোতে অধিক অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দারা বঞ্চিত হচ্ছেন। ট্রাম্পের এমন দাবির বিপক্ষে যেমন মানুষ আছে, তেমনি পক্ষেও আছে। তবে যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রে এখন নতুন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায়, তাই ন্যাটোর পক্ষে কথা বলা কর্মকর্তারাই অধিক গুরুত্ব পাবে ওয়াশিংটনের আগামী নীতিনির্ধারণে।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা নেওয়ার পর বাইডেনের প্রথম পরীক্ষা ছিল জি-৭ সম্মেলনে। লন্ডনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বাইডেন চেষ্টা করেছেন চীন বিরোধিতাকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে। এতে বাইডেন কতটা সফল বা ব্যর্থ হয়েছেন তা বোঝা যাবে আগামী সপ্তাহের ন্যাটো সম্মেলনে। কারণ, ওই সম্মেলনে ন্যাটো প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা স্পষ্ট করবেন বাইডেন। ন্যাটোর এই সম্মেলনে বাইডেন মুখোমুখি হবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সফল কূটনীতির ওপর নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের আগামীর সম্পর্ক। যদিও ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো পুতিন-বাইডেনের মধ্যে বাগ্যুদ্ধ উসকে দিচ্ছে। বাইডেন পুতিনকে হত্যাকারী স্বৈরশাসক বলেছেন, এমন খবর ভাসছে ইন্টারনেটে। অনেক দিন ধরেই বলা হচ্ছে, রাশিয়ার মাটি থেকে একের পর এক র‌্যানসামওয়্যার হামলা চালানো হচ্ছে সাইবার স্পেসে। এতদিন রাশিয়া এসব দাবি অস্বীকার করে এলেও ন্যাটো সম্মেলনের আগে গত রবিবার মস্কো জানিয়েছে যে, তারা র‌্যানসামওয়্যার হামলার জন্য দায়ীদের হস্তান্তরে আগ্রহী। বোঝা যাচ্ছে, বাইডেন ও পুতিন উভয়েই ন্যাটো সম্মেলনের আগে একটা আলোচনার পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন। যদিও বাইডেন মনে করেন, ‘একজন মানুষ তার আচরণ বদলাবে, এমন গ্যারান্টি দেওয়া যায় না। স্বৈরশাসকদের হাতে অনেক ক্ষমতা এবং তারা জনগণের প্রশ্নের উত্তর দেয় না। সত্যি বলতে, আমি সদয়ভাবেই আমার প্রতিক্রিয়া জানাব যাতে তিনি অসন্তুষ্ট না হন।’

এদিকে বাইডেনের পার্টির প্রভাবশালী সিনেটররা বলছেন, এবারের কূটনীতিক লড়াইয়ে বাইডেনের জয় ভিন্ন কোনো পথ নেই। ন্যাটোর সম্মেলন তাই বাইডেনের জন্য অগ্নিপরীক্ষার হতে যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ক্ষতি করেছেন, এমন দাবি ডেমোক্র্যাটদের। কিন্তু এও সত্যি, ট্রাম্পই এমন অনেক বিষয় সামনে এনেছেন যা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক মহল দীর্ঘদিন ধরে চাপা রেখেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের একটা বড় অংশই ইউরোপ প্রতিরক্ষায় নিজেদের বাজেট থেকে বরাদ্দ দিতে চায় না। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও অনেকেই এমনটা মনে করেন। ফলে বাইডেন যদি ইউরোপের মিত্রদের তুষ্ট করতে নতুন প্রতিরক্ষা বাজেট ঘোষণা করেন, তাহলে ঘরোয়া রাজনীতিতে সমালোচনা ও চাপের মধ্যে পড়তে পারেন তিনি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাইডেন এমন ঝুঁকি নেবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।

ইউরোপ এখন আর কোনো পক্ষকে বিশ্বাস করে না। তারপরও আগামী সপ্তাহের সম্মেলনে ইউরোপ যদি বুঝতে পারে পুতিনকে সামলানো বাইডেনের পক্ষে সহজ হবে না, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্ররা নতুন কোনো পদক্ষেপের দিকে যেতে পারে যা ওয়াশিংটনের পক্ষে নাও যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই কর্নওয়াল থেকে ব্রাসেলসে রওনা দিয়েছেন। সেখানে তিনি গতকাল ন্যাটোর অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে। ইউরোপের প্রতিরক্ষা নিয়ে এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা টালবাহানার চাপ সামলাতে হচ্ছে এখন বাইডেনকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত