পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এসিআই লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এসিআই মোটরস ৮৪ কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ পেতে যাচ্ছে। তিনটি বিদেশি বিনিয়োগকারী সংস্থা এসিআই মোটরসের প্রেফারেন্স শেয়ার কেনার মাধ্যমে এই বিনিয়োগ করছে, যা ইতিমধ্যে এসিআই লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন দিয়েছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এ তথ্য জানিয়েছে এসিআই। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিদেশি বিনিয়োগ পেল এসিআই মোটরস।
এসিআই জানিয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ সংগ্রহ করতে এসিআই মোটরসের ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৫টি প্রেফারেন্স শেয়ার বিক্রি করবে। আর এই শেয়ারগুলো কিনে নিচ্ছে যৌথভাবে তিনটি বিদেশি বিনিয়োগকারী সংস্থা নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এফএমও, যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিডিসি (কমনওয়েলথ ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন) এবং নরওয়েভিত্তিক নরফান্ড।
বিদেশিদের কাছে এসিআই মোটরসের ১০০ টাকা দামের শেয়ার বিক্রি হবে ৫৪০ টাকায়, যেখানে ৪৪০ টাকা প্রিমিয়াম নেবে এসিআই। এই ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৫টি শেয়ার ৫৪০ টাকা দামে বিক্রি করে মোট ৮৩ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭০০ টাকা বিনিয়োগ পাবে এসিআই মোটরস। এই বিনিয়োগ দিয়ে এসিআই মোটরস তাদের বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যবসা বাড়াবে।
দেশে যৌথভাবে ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এসিআই মোটরস কৃষি ও নির্মাণ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ উৎপাদন করে। বর্তমানে এসিআই মোটরসের ৫২ দশমিক ৭০ শতাংশ শেয়ারের মালিক এসিআই লিমিটেড। বিদেশি তিন বিনিয়োগ সংস্থার কাছে শেয়ার বিক্রির পর সেটা কমে ৪৬ দশমিক ৮০ শতাংশে নেমে আসবে। ফলে এটি এসিআইর সাবসিডিয়ারি থেকে সহযোগী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
এর আগে ২০২০ সালের আগস্টে এসিআই মোটরস ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৪টি শেয়ার ৫৪০ টাকায় বিক্রি করে ১২৬ কোটি টাকা বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছিল। তখন এসিআই মোটরসে এসিআই লিমিটেডের শেয়ার ৭৫ শতাংশ থেকে কমে ৫২ দশমিক ৬০ শতাংশে নেমে এসেছিল।
এসিআইর সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম লাভজনক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে এসিআই মোটরস। ২০১৯-২০ হিসাব বছরে এই প্রতিষ্ঠানটির রেভিনিউ ছিল ১ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। আর কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ছিল ৮১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। চলতি ২০২০-২১ হিসাব বছরের নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেভিনিউ এসেছে এসিআই মোটরস থেকে। এ সময় কোম্পানিটির রেভিনিউ হয় ৯৭০ কোটি টাকা। আর কর-পূর্ববর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৯১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
এসিআইর সবচেয়ে বেশি মুনাফা আসে ফার্মাসিউটিক্যালস খাত থেকে। চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালসের কর-পূর্ববর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৭১ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মুনাফা আসে সাবসিডিয়ারি এসিআই মোটরস থেকে।
বিদেশি সংস্থার কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৫টি শেয়ার হবে প্রেফারেন্সিয়াল শেয়ার, কনভার্টেবল অর্থাৎ এগুলোকে পরে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করা যাবে। প্রেফারেন্সিয়াল শেয়ারে সাধারণত ভোটাধিকার থাকে না। এসিআই জানিয়েছে, বিদেশিদের কাছে বিক্রি হওয়া শেয়ারগুলো হবে নন-কিউমেলেটিভ প্রেফারেন্সিয়াল শেয়ার। অর্থাৎ যদি কোনো বছর এসিআই মোটরস বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পরে সেই লভ্যাংশ দাবি করতে পারবে না।
এদিকে দ্বিতীয়বারের মতো বিদেশি বিনিয়োগের খবরে এসিআই লিমিটেডের শেয়ারের দাম বেড়েছে। গতকাল ডিএসইতে এসিআই লিমিটেডের শেয়ার আগের দিনের চেয়ে ৬ টাকা ৬০ পয়সা বেড়ে ২৬৯ টাকা ১০ পয়সা হয়েছে।
১৯৭৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এসিআই লিমিটেডের শেয়ার বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে। ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে কয়েকটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের কারণে এসিআই লিমিটেড ৭৪ কোটি ২০ লাখ টাকা লোকসান দেখিয়েছিল। লভ্যাংশ দিয়েছিল শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা এবং ১০০ শেয়ারে নতুন ১৫টি শেয়ার। আর ২০১৯-২০ হিসাব বছরে এ কোম্পানিটি ১০৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা লোকসান দেখালেও লভ্যাংশ দিয়েছিল শেয়ারপ্রতি ৮ টাকা এবং ১০০ শেয়ারে নতুন ১০টি শেয়ার।
এসিআই লিমিটেডের পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ৬৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩৫ দশমিক ২৮ শতাংশ আছে পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে ৩৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ শেয়ার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ার আছে। এসিআই লিমিটেডের বর্তমান বাজার মূলধন ১ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা।
