মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ন্যাশনাল টি কোম্পানির পাত্রখোলা চা বাগানে চা শ্রমিকদের দু’পক্ষের সংঘর্ষে দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। পরে কাজ বন্ধ রেখে চা-শ্রমিকদের একটি অংশ চা বাগান কারখানার সামনে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র তীর-ধনুক, দা-লাঠি ইত্যাদি নিয়ে অবস্থান করছে। গতকাল সোমবার সকালে এ ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও র্যাব।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাত্রখোলা চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি শিপন ও সাধারণ সম্পাদক দুলালের গ্রুপের মধ্যে দখলদারিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ম্যানেজমেন্ট সম্পাদক গ্রুপের সঙ্গে সব সুযোগ-সুবিধা ও কার্যক্রম পরিচালনা করার কারণে সভাপতি গ্রুপ ক্ষুব্ধ। এসবের জের ধরে গতকাল সোমবার সকালে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে সভাপতি গ্রুপের নয়ন কুর্মী (৩৫) ও সম্পাদক গ্রুপের লক্ষ্মীন ধর ভৌমিক (২৮) আহত হন। তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
এর পর থেকে ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটি পক্ষ কারখানার ভেতরে থাকা পাগলা ঘণ্টা বারবার বাজিয়ে শ্রমিকদের একত্রিত করছে। উত্তেজিত শ্রমিকরা চা বাগানের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে সহকারী পুলিশ সুপারের (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেল) নেতৃত্বে চার গাড়ি পুলিশ অবস্থান করছে। দুপুরে ঘটনাস্থলে র্যাব মোতায়েন করা হয়।
চা-শ্রমিক শংকর কৈরী, ফুলকুমারী চাষা, অলকা গঞ্জু, পহেলা গীতা, গোলশান বিবি, রাধেশ্যাম গড় অভিযোগ করে বলেন, চা সেকশনে আমাদের নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই। ম্যানেজমেন্টের অনুগত লোকজন সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও আমরা সাধারণ শ্রমিকরা তা থেকে বঞ্চিত।
পাত্রখোলা চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি শিপন চক্রবর্তী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাগান কর্তৃপক্ষকে শ্রমিকদের ঘর মেরামতের দাবি জানিয়ে এলেও দেখা গেছে একটি পক্ষের চা-শ্রমিকদের ঘর মেরামত করা হয়। প্রকৃত জরাজীর্ণ ঘর মেরামত ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে না।
অপরদিকে পঞ্চায়েত সম্পাদক দুলাল অলমিক জানান, আসলে সভাপতি বহিষ্কৃত থাকায় বাগানে দায়দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত। সে কারণেই তিনি গ্রুপ সৃষ্টির মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) এজিএম কাম পাত্রখোলা চা বাগান ব্যবস্থাপক শামছুল ইসলাম সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাগান ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা নেই। চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দুটি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধেই পাত্রখোলা চা বাগানে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
কমলগঞ্জ থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান পুলিশ মোতায়েনের সত্যতা স্বীকার করে দাবি করেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত। সমস্যার সমাধান করা হবে।
