গোয়ালন্দ উপজেলার চরের কৃষকেরা স্বল্প খরচে বাদাম চাষ করে ভাগ্য বদলাচ্ছেন।
কৃষকেরা জানান, চরের জমি উর্বর হওয়াতে বেশি সার দিতে হয় না। তাই কম খরচে চাষ করা যায়। বীজ রোপণের তিন মাসের মধ্যে বাদাম তোলা যায়। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারজাতকরণের সুব্যবস্থা না থাকায় কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের পদ্মার চরজুড়ে এখন বাদাম তোলার ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। চর মহিদাপুর, চর কন্যাশুর, রাখালগাছি, বেতকাচরসহ বিভিন্ন এলাকার আরও কয়েকটি চরে বাদাম আবাদ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় ১৯৫ হেক্টর ও ১৫০ লক্ষ্যমাত্রা জমিতে বাদাম আবাদ হয়েছে।
দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর দৌলতদিয়ার সাত্তার মেম্বার পাড়া এলাকার বাদাম চাষি হানিফ খাঁ বলেন, ‘গতবার আমি ৫ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। আমার মোট খরচ হয়েছে ২৫-৩০ হাজার টাকা। আর বাদাম বিক্রি করেছি ৯০ হাজার টাকায়। আমার প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। এবারও ৮ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি; জানি না এবার কী হবে। এবার প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে।’
উত্তর দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট এলাকার আরেক বাদাম চাষি মহিউদ্দিন শেখ বলেন, গত বছর ২ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছিলাম। এ বছর ৩ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাদাম ভালো আছে। লাভও বেশি হবে বলে আশা করছি।
তবে চাষিদের অভিযোগ, গোয়ালন্দ বাজারে বাদাম বিক্রির কোনো শেড না থাকায় ৮ হাজার টাকার বাদাম বিক্রি করতে হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
একটি বাজারে শেডের ব্যবস্থা করলে লাভবান হতে পারতেন বলে মনে করেছেন তারা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ ও বাদাম চাষিরা জানান, অক্টোবর থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বাদামের বীজ লাগানো হয়। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে বাদাম তোলা শুরু হয়। বীজ লাগানোর আগে চাষ দিয়ে মাটি সামান্য নরম করে নিতে হয়; আগাছা পরিষ্কার করতে হয়। তারপর সারি করে লাগানো হয় বাদাম বীজ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যেক বাদাম চাষিকে সার, বীজ দেওয়া হয়েছে। আর প্রণোদনা হিসেবে ১২০ জন কৃষককে ডিএপি ১০ কেজি, সার ৫ কেজি, বারী-৮ বীজ ১০ কেজি করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা চরের মাটি উর্বর হওয়ায় বেশি সার কিংবা কীটনাশক দিতে হয় না। তিন মাসের মধ্যই বাদাম ঘরে তোলেন চাষিরা। তাই অল্প কষ্টে অধিক লাভে খুশি বাদাম চাষিরা।
