যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্ক তলানিতে থাকার মধ্যে ক্ষীণ আশা নিয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় হওয়া বৈঠক শেষ পর্যন্ত ‘ইতিবাচক’ এবং ‘গঠনমূলক’ হয়েছে বলেই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। স্থানীয় সময় গত বুধবার নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই তিন ঘণ্টার মতো দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর আলাদাভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন তারা। সেখানেই বৈঠক নিয়ে মন্তব্য করেন পুতিন এবং বাইডেন। বাইডেন বলেছেন, পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠক ‘ইতিবাচক’ হয়েছে। অন্যদিকে পুতিন বৈঠককে ‘গঠনমূলক’ বলেছেন।
বিবিসি জানাচ্ছে, দুজনের সংবাদ সম্মেলনের পর একটি যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বাইডেন ও পুতিন দুজনই বলেছেন দুই দেশ প্রমাণ করে দিয়েছে যে, উত্তেজনার সময়েও তারা অভিন্ন লক্ষ্যে অগ্রগতি অর্জন করতে পারে। এ ছাড়া রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা নিজেদের মধ্যকার সংঘাত এবং পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি কমাতে সহায়ক হবে বলেও উল্লেখ করেন তারা। তবে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, কিছু বিষয়ে একমত পোষণ করলেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, হ্যাকিং, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ও ইউক্রেন ইস্যুর মতো নানা বিষয়ে দীর্ঘদিন থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে অস্থিরতা বিরাজ করছে। তবে বুধবারের শীর্ষ সম্মেলনের পরে পুতিন জানান, তাদের গঠনমূলক আলোচনায় কোনো বৈরিতা ছিল না।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন স্বীকার করেন, বৈঠকে বাইডেন মানবাধিকারের বিষয়টি তুলেছেন। রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সাই নাভালনির পরিণতি এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মস্কোর আচরণ নিয়েও কথা বলেছেন বাইডেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাভালনির নাম না নিয়েই তাকে কারাগারে পাঠানোর ব্যাপারে আত্মপক্ষ সমর্থন করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। জেনেভা থেকে আলজাজিরার কিম্বারলি হালকেট জানান, পুতিন নাভালনি সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো উপেক্ষা করেছেন। এর বদলে তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারের বিক্ষোভ এবং ইউএস ক্যাপিটল ভবনে সহিংসতার কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার দিকে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
কিম্বারলি হালকেট বলেন, এদিনের সংবাদ সম্মেলনেও পুতিন তার সহজাত আচরণ করেছেন। গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা এবং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে ক্র্যাকডাউনের বিষয়ে পশ্চিমা দুনিয়ার সমালোচনা থেকে তিনি দূরে থাকতে চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সমালোচনা করার মতো অবস্থানে নেই।
পুতিন জানান, স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটি (স্টার্ট) চুক্তির সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু করবে মস্কো ও ওয়াশিংটন। ২০২৬ সালে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষের আগেই পরবর্তী চুক্তি নিয়ে এ আলোচনা শুরু হবে। কৌশলগত পারমাণবিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে দুই দেশেরই দায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পুতিন বলেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে সাইবার হামলার ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিয়েছে। উভয় পক্ষই সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা শুরুর ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তার এজেন্ডা রাশিয়া বা অন্য কারও বিরুদ্ধে নয়; বরং তার এজেন্ডা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ। যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা বলে যাবে। পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
জো বাইডেন জানান, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি রাশিয়ার কারাবন্দি বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সাই নাভালনির বিষয়টি তুলে ধরেছেন। কথা বলেছেন রাশিয়ায় আটক দুই মার্কিন নাগরিকের বিষয়েও। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়ে আমি কীভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা না বলে থাকতে পারি?
প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বা দেশটির নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা সহ্য করা হবে না। ওয়াশিংটন এর প্রতিক্রিয়া জানাবে। এ বিষয়টি পুতিনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাইডেন জানান, তিনি বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুরও অবতারণা করেছেন। তিনি পুতিনকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।
