আশুলিয়ায় কুড়িয়ে পাওয়া খাতার মলাটের সূত্র ধরে আশুলিয়ায় বৃদ্ধ কফিল উদ্দিনকে শ্বাসরোধে হত্যার ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার ভোরে আশুলিয়ার জিরাব এলাকার রিপনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রিতা বেগম নামে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত কফিল উদ্দিনের স্ত্রী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে দুপুরে রিতা বেগমকে আদালতে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার রিতা বেগম (২৯) নওগাঁ জেলার সদর থানা এলাকার বাসিন্দা এবং নিহত কফিল উদ্দিন (৬৫) জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার পাতুসি গ্রামের মৃত কাজী মুনশী শেখের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার বঙ্গবন্ধু সড়কের ডাক্তার শাফকাথ হোসেনের বাড়ির কেয়ারটেকার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
থানা পুলিশ জানায়, গত ২২ মার্চ প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে আশুলিয়ার বঙ্গবন্ধু রোডের শাফকাথ হোসেনের বাড়ির কেয়ারটেকার কফিল উদ্দিনের (৬৫) মরদেহ উদ্ধার করেছিলো পুলিশ। এসময় দরজায় বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকলেও ভেতরে পড়ে ছিলো কফিল উদ্দিনের নিথর দেহ। লাশ উদ্ধারের সময় নিহতের হাতে ইনহেলার থাকায় প্রায় সবাই ধরে নেন শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যায় তার মৃত্যু হয়। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্নও ছিল না।
তবে থেকে ঘর তালাবদ্ধ থাকায় এবং একই দিনে পাশের ঘরের এক নারী নিখোঁজ হওয়ায় লাশ উদ্ধারকারী আশুলিয়া থানার এসআই সুদীপ কুমার গোপের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। এ জন্য নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
এরপর নানা প্রশ্ন মাথায় নিয়ে রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্ত শুরু হয়। ওই নারীর কক্ষে মাটিতে পড়ে থাকা খাতার একটি মলাট চোখে পড়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার। সেখানে একটি শিশুর নাম ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম দেখতে পান। এরপর শুরু হয় খাতার মলাটে থাকা শিক্ষ প্রতিষ্ঠান ও শিশুর সন্ধান। পাশাপাশি নিহত কফিল উদ্দিনের খোয়া যাওয়া ফোনের সূত্র ধরে আগাতে থাকে তদন্ত।
খাতার মলাটের সূত্র ধরে প্রতিবেশী সেই নারীর নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়। তারপর তার খোঁজে নামে পুলিশ। এরমধ্যে তৃতীয় এক ব্যক্তির সন্ধান মেলে যার সঙ্গে ওই নারীর যোগযোগ রয়েছে। পরে সেই তৃতিয় ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদে নিখোঁজ নারীর সন্ধান পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোরে আশুলিয়ার জিরাব এলাকার রিপনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রিতা বেগমকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে জানা যায় কফিল উদ্দিন হত্যার শিকার হয়েছিলেন। এর আগে লাশ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়।
গ্রেপ্তার নারীর বরাত দিয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার গোপ বলেন, কফিল উদ্দিন সাফকাত হোসেনের বাড়ির কেয়ারটেকার ছিলেন। ওই বাসায় রিতা বেগম একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন। এই সুবাদে কফিল উদ্দিনের সাথে রিতার ভালো সম্পর্ক হয়। কফিলের তরকারি, মাছ কেটে দিয়ে সহযোগিতা করতেন রিতা। ঘটনার দিন রাতে কফিলের মাছ কেটে তার ঘরে দিতে গেলে কফিল কুপ্রস্তাব দেয় রিতাকে। রাজি না হলে জোরাজোরি করে কফিল। এসময় রিতা তার গলা চেপে ধরলে কফিল মেঝেতে পড়ে মারা যায়। পরে তার হাতে ইন হেলার ধরিয়ে দিয়ে সকালে বাসা ছেড়ে চলে যান রিতা। সঙ্গে ছোট বোন ও শিশুসহ সব প্রমাণ উধাও করে পালিয়ে যান রিতা। কিন্তু চৌকস পুলিশ খাতার মলাটের সূত্র ধরে তদন্তে নামলে ধরা পড়েন রিতা।
