সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ

আপডেট : ১৮ জুন ২০২১, ১১:৪৭ পিএম

খুলনার কয়রা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার রাকিব উদ্দীনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি অনৈতিক সুবিধা নিয়ে একজনের দখলীয় জমি অন্যজনকে পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করছেন। তার চাহিদা পূরণে কেউ ব্যর্থ হলে তদন্ত প্রতিবেদন বিপক্ষে চলে যায়। এতে জমি নিয়ে এলাকায় বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে, স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষ সার্ভেয়ার রাকিব উদ্দীনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বর্তমানে কয়েকটি অভিযোগের তদন্ত চলমান। এ ছাড়া জমির নামপত্তনের জন্য ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার আমাদি ইউনিয়নের মসজিকুড় গ্রামের বাসিন্দা শংকরি বিশ্বাসের পৈতৃক চার বিঘা জমি নিয়ে একই গ্রামের কুদ্দুস সরদার ওরফে পিন কুদ্দুসের বিরোধ চলছিল। এ বিষয়ে নির্বাহী আদালতে মামলা হলে প্রথমে আমাদি ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী প্রহ্লাদ রায়কে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই তদন্তে শংকরি বিশ্বাসের পক্ষে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। পরে পিন কুদ্দুসের পক্ষে আদালতে নারাজি আবেদন দিলে সার্ভেয়ার রাকিব উদ্দীনকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। কিন্তু সার্ভেয়ার রাকিব পুনঃতদন্তের নির্দেশ পেয়ে শংকরি বিশ্বাসের কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। শংকরি বিশ্বাস এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন। পরে প্রতিপক্ষ পিন কুদ্দুসের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তার পক্ষেই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে ওই এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে।

হাতিয়ারডাঙ্গা গ্রামের ঊষা রানী বাছাড়, ফতেকাটি গ্রামের রশিদ সানা, তালবাড়িয়া গ্রামের মনীন্দ্রনাথ বাহাদুর ও মহেশ্বরীপুর গ্রামের হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক অভিযোগে জানা গেছে, ভিপি লিজ কেসের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অন্যত্র ডিসিআর দিয়েছেন। এতে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

মহেশ্বরীপুর গ্রামের হাফিজুর রহমান বলেন, সার্ভেয়ার রাকিব উদ্দীন যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ভিপি সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টিতে লিপ্ত রয়েছেন। এলাকায় তার সহযোগীদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ সৃষ্টি করে তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে একজনের দখলীয় জমি আরেকজনকে পাইয়ে দিচ্ছেন। এতে এলাকায় জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তবে সার্ভেয়ার রাকিব উদ্দীন এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, কাউকে সুবিধা দিতে না পারলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ দিচ্ছেন। আমি সঠিকভাবে আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগের তদন্ত চলছে জানিয়ে বলেন, তিনি আগে থেকেই দুষ্টু প্রকৃতির লোক। আমার আগের কর্মস্থলেও তার কারণে অনেক সমস্যা পোহাতে হয়েছে। এ মুহূর্তে যেসব অভিযোগ এসেছে, তা তদন্তে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত