চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের আবদুল গনি সড়কের বড়ুয়া পাড়ার ডালাই খালের ওপর পাকা পুলটি (কালভার্ট) ভেঙে যাওয়ায় ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাৎক্ষণিক বাঁশের সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে মানুষ পারাপারের ব্যবস্থা করা হলেও পণ্য এবং যানবাহনের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ।
ইউনিয়নের সোনারগাঁও, আফজালপাড়া, সাদেকেরপাড়া, সওদাগরপাড়া, ওয়াহেদেরপাড়া গ্রামের অন্তত দশ হাজার মানুষ এখন কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষের ইউনিয়ন এবং উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাঘাতে গ্রামগুলোতে অর্থনৈতিক, শিক্ষাসহ সামগ্রিক অবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ডালাই খালে ধসেপড়া পুলের স্ল্যাবের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে খাল পারাপারের চেষ্টা চলছে। যাত্রী ও পণ্যবাহী কোনো যানবাহন চলাচল করতে না পারায় চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়েছে গ্রামবাসী।
আবদুর রহমান, আবদুল মতিন, ছালে আহমদ, প্রকাশ বড়ুয়াসহ কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, এ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত গ্রামবাসীদের অনেকে কৃষিজীবী। এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্যের বাজারজাত করতে যোগাযোগের জন্য ডালাই খালের পুলটি গুরুত্বপূর্ণ। বাঁশের সাঁকোতে সংকটের সুরাহা হয় না। তারা জরুরি ভিত্তিতে এখানে কালভার্ট পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
বড়ুয়াপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ সমিরন বড়ুয়া বলেন, ১৯৬০ সালে ডালাইখালের ওপর পুলটি নির্মিত হয়েছিল। জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে পরিত্যক্তপ্রায় পুলটির মাঝে স্ল্যাবের ধারক পিলারের সঙ্গে বাঁশের খুঁটির ঠেশ দিয়ে যোগাযোগ রক্ষা করার চেষ্টা করে আসছিল এলাকাবাসী। অতঃপর সব প্রয়াস ব্যর্থ করে গত ৫ জুন বিকেলে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই এমনিতে পুলটি খালের গর্ভে ধসে পড়ে।
ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ সৈয়দ তালুকদার জানান, পুলটি পুনর্নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকৌশল বিভাগসহ কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার লিখিত আবেদন করেও কোনো সুরাহা হয়নি।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী দিদারুল আলম জানান, গত ২০১৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্মানের দুর্যোগে ক্ষতির তালিকায় প্রকল্পভুক্ত করে দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ডালাই খালের ওপর একটি সাত মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু নির্মাণ প্রাক্কলন তৈরি করে চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সুপারিশক্রমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
