অনুমোদনের তিন দিনের মাথায় জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠিত কমিটিতে হবিগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদিকে অনুমোদিত নতুন কমিটি নিয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
১৬ জুন ৭৫ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি (২০১৯-২০২২) অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এর আগে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলা সম্মেলনে সাংসদ আবু জাহিরকে সভাপতি ও আলমগীর চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক মনোনয়ন করা হয়। পরে কমিটিতে হবিগঞ্জের ৪টি আসনের নির্বাচিত সাংসদদের মধ্যে তিনজন অন্তর্ভুক্ত হলেও বাদ পড়েন হবিগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান। বিষয়টি দলের নীতিনির্ধারণী মহলে অবগত করা হলে জেলা কমিটির নেতাদের কমিটিতে আব্দুল মজিদ খানের নাম অন্তর্ভুক্ত করে পুনরায় অনুমোদন নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতা আব্দুল মজিদ খানের বাসভবনে গিয়ে তাকে জেলা কমিটিতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান। তবে তাকে কোন পদ দেওয়া হয়েছে তা জানানো হয়নি। জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আব্দুল মজিদ খান আগ্রহ প্রকাশ করায় তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আব্দুল মজিদ খান বলেন, আমি জেলা কমিটির সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক। আমাকে বাদ দিয়ে তারা কীভাবে জেলা কমিটি গঠন করেছিলেন, তা বোধগম্য নয়। জেলা কমিটির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী আমাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
এদিকে কমিটি থেকে বাদ পড়া সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম মোল্লা মাসুম বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাহির ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরীর ভাই, ভাগনে, আত্মীয়স্বজনসহ প্রায় ১০ জনকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। অথচ আমাকে নানা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।
বাদ পড়া আরেক নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক অনুপ কুমার দেব মনা বলেন, দলে থাকা তো দূরের কথা জীবনে যারা ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণ করেনি, তারাও কমিটিতে স্থান পেয়েছে। দলের জন্য নিবেদিত নেতাদের বাদ দিয়ে এর আগে কোনো সময় কমিটি গঠন হয়নি।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও জেলা কমিটির সাবেক সদস্য সৈয়দ কামরুল হাসান তাকে কমিটিতে না রাখায় আক্ষেপ করে বলেন, ২০১৯ সালের আওয়ামী লীগের সংশোধিত গঠনতন্ত্রে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধীর সন্তান ও স্বজনকে কমিটিতে রাখা যাবে না। অথচ হবিগঞ্জ জেলা কমিটিতে একাধিক রাজাকারের সন্তান রয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী বলেন, অনেকেই বিগত ইউপি, উপজেলা নির্বাচনগুলোতে দলীয় নির্দেশ অমান্য করে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাদের কমিটিতে না রাখার জন্য দলের হাইকমান্ডের নির্দেশ রয়েছে। এ ছাড়া বয়সের কারণেও কেউ কেউ বাদ পড়েছেন। রাজাকারপুত্রদের কমিটিতে রাখার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
