এফবিসিসিআইয়ের চিঠি গভর্নরকে

ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি না করার দাবি ব্যবসায়ীদের

আপডেট : ২২ জুন ২০২১, ০২:৩৯ এএম

করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণ পরিশোধ না করলেও খেলাপিমুক্ত থাকার দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। ১৬ জুন এ দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে চিঠি দেন এফবিসিসিআইর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

চিঠিতে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, করোনা মহামারীর কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে। অধিকাংশ শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সুবিধার মেয়াদ না বাড়ালে অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অনিচ্ছাকৃত খেলাপি গ্রাহকে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে ব্যাংক খাতসহ পুরো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

করোনা মহামারীর প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সব ধরনের ঋণের কিস্তি পরিশোধে ছাড় দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ঋণ পরিশোধ না করেও একটি বছর খেলাপি হওয়ার হাত থেকে রেহাই পান ব্যবসায়ীরা। তবে বছরের শেষ দিকে মহামারীর প্রকোপ কিছুটা কমে এলে এই সুবিধা তুলে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মেয়াদি ঋণ পরিশোধে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়। এর ফলে বিদ্যমান মেয়াদি ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে আরও ৫০ শতাংশ সময় বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পান ব্যবসায়ীরা।

চলমান ঋণের ওপর আরোপিত অনাদায়ী সুদ ৬টি ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তলবি ঋণ পরিশোধের জন্য চলতি বছরের মার্চ থেকে ৮টি সমান ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ঋণগুলোর বিপরীতে মার্চের কিস্তি জুন পর্যন্ত পরিশোধের সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ ধরনের ছাড় দেওয়ায় চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রশংসা করেন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন। গভর্নর ফজলে কবিরকে লেখা ওই চিঠিতে জসিম উদ্দিন বলেন, কভিড পরিস্থিতিতে নিয়মিত নীতি সহায়তা দেওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে কভিড-পরবর্তী ধকল সন্তোষজনকভাবে মোকাবিলা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান চিটাগাং চেম্বারের : একই দাবি জানিয়েছেন চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম। গতকাল সোমবার চিঠি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে বাধ্যবাধকতা ঋণ শ্রেণীকরণের সময়সীমা চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

চিঠিতে চেম্বার সভাপতি বলেন, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিশ^ব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। এর বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে এবং এ বাস্তবতা মেনে নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিবেশী দেশ ভারতীয় ধরন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। করোনা মহামারীর ফলে ক্রমবর্ধমান আর্থিক ও মানবিক বিপর্যয় আমাদের দেশকে অপ্রত্যাশিত অর্থনৈতিক চাপে ফেলেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ও এর নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় বর্তমান সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছু ইতিবাচক আর্থিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে; যা অবশ্যই প্রশসংসাযোগ্য।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঋণ শ্রেণীকরণ ও ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তফসিলি ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিক নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসার কথা বিবেচনায় নিয়ে ঋণ পরিশোধে বাধ্যবাধকতা ও ঋণ শ্রেণীকরণের সময়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঋণ শ্রেণীকরণের সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর পাশাপাশি এনবিএফআইর ঋণের সুদহার ব্যাংকের মতো ৯ শতাংশ নির্ধারণ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত