স্বামীর পছন্দে ভোট না দেওয়ায় স্ত্রীকে মারধর

আপডেট : ২৪ জুন ২০২১, ০১:০২ এএম

পটুয়াখালীর দুমকিতে স্বামীর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ায় স্ত্রীকে আটকে রেখে দফায় দফায় মারধরের ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আলগি গ্রামে। এ ব্যাপারে গত মঙ্গলবার রাতে দুমকি থানায় মামলা হয়েছে।

আহত গৃহবধূ ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাঙ্গাশিয়া ইউপির নির্বাচনে ১, ২ ও ৩ নম্বর ইউনিটের সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থী তাসলিমা আক্তারের কলম প্রতীকে ভোট না দেওয়ায় গত সোমবার রাতে স্ত্রী সুরাইয়া বেগমকে (২২) ঘরের দরজা বন্ধ করে মারধর করেন তার স্বামী ইনসান মৃধা (৩০)। ভোটের দিন সোমবার রাত ৮টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত সুরাইয়াকে ঘরে আটকে রেখে কয়েক দফা মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে গৃহবধূর মা-বাবা ও প্রতিবেশীরা মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় আটক অবস্থা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে সুরাইয়াকে দুমকি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ব্যাপারে সুরাইয়ার বাবা ফজলু খাঁ ওইদিন ইনসানকে প্রধান আসামি করে দুমকি থানায় মামলা করেন।

সুরাইয়া বেগম বলেন, পাঙ্গাশিয়া ইউপি নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী প্রার্থী তার গর্ভধারিণী মা নাসিমা বেগমের ‘মাইক মার্কায়’ ভোট দেওয়ায় কলম প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক স্বামী ইনসান তাকে সোমবার ভোটকেন্দ্রে চড় মারেন এবং রাতে বাড়িতে এসে কয়েক দফা মারধর করে ঘরে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে বাবার বাড়ির লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, আমার মাকে সমর্থন না করে বরং তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কলম প্রতীকে ভোট দিতে বলে। যতই কাছের লোক হোক না কেন, কেউ কি নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে অন্য মানুষকে ভোট দিতে পারে? আমিও দিইনি। এ কারণে লোভী স্বামীর বর্বরোচিত নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইনসান মৃধা মোবাইল ফোনে বলেন, রাগের মাথায় কয়েকটা চড় দিয়েছিলাম। তবে ঘরে আটক করে শারীরিকভাবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

দুমকি থানার ওসি মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হাসপাতালে ভিকটিম চিকিৎসাধীন। তদন্তপূর্বক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত