টাঙ্গাইলের সখীপুরে গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কারখানার নষ্ট তুলা, যা ব্যবহারে পশুর স্বাস্থ্যহানি ও মৃত্যুঝুঁকিও রয়েছে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার গরু খামারি ও কৃষকরা। ওইসব খামারির চাহিদা মেটাতে এ উপজেলায় ছোট-বড় দুই শতাধিক তুলা ব্যবসায়ী গড়ে উঠেছে। তুলা খাবার হিসেবে ব্যবহার করলে গবাদি পশুর স্বাস্থ্য ভালো হয় এমন ভ্রান্ত ধারণা থেকেই বেশিরভাগ খামারি এ ধরনের খাবার ব্যবহার করছেন। এদিকে গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে পরিত্যক্ত ও ক্ষতিকারক এসব তুলা কম দামে ক্রয় করে বেশি দামে বিক্রি ও মজুদ রেখেছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরশহরের জামতলা এলাকায় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম গো-খাদ্য হিসেবে কারখানার উচ্ছিষ্ট তুলা মজুদ রেখে দেদার বিক্রি করছেন। গো-খাদ্য হিসেবে তুলার ব্যবহারের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি প্রায় ১৫ বছর ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রথম দিকে এই এলাকার মানুষ তুলা খাওয়াতে চায়নি। পরে তাদের নানাভাবে বোঝানোর পর এখন ব্যাপকহারে গো-খাদ্য হিসেবে তুলার ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। প্রতি কেজি তুলা ১৩ থেকে ১৫ টাকা দরে মাসে প্রায় ৬-৮ টন তুলা বিক্রি করছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এ উপজেলায় আমার মতো আরও অনেক তুলা ব্যবসায়ী রয়েছে। তিনি দাবি করেন, তুলা গরুকে খাওয়ালে কোনো ক্ষতি হয় না। এছাড়া খড়ের চেয়ে খরচও অর্ধেক কম। এর আগে তাকে এ খাদ্য বিক্রির দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলেও তিনি জানান।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল জলিল বলেন, পশুর একমাত্র সুষম খাদ্য খড় ও ঘাস। আমরা এগুলো উৎপাদনে খামারিদের উৎসাহ দিয়ে থাকি। তবে একশ্রেণির অসাধু তুলা ব্যবসায়ী খামারিদের ভুল বুঝিয়ে কারখানার পরিত্যক্ত ও নষ্ট তুলা গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করাচ্ছেন। পশু খাদ্যে এ খাবার ব্যবহার ক্ষতিকারক এবং স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়বে। অনেক ক্ষেত্রে পশুর মৃত্যুঝুঁকিও রয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিত্রা শিকারী বলেন, কারখানার উচ্ছিষ্ট ও পরিত্যক্ত তুলা যারা বিক্রি এবং মজুদ রাখবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
