করোনা মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৮ জুন ২০২১, ০২:৪৫ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এ রোগের বিস্তার মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি দেশের ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের রপ্তানি খাতকে সমৃদ্ধকরণে সংশ্লিষ্ট মহলকে গুরুত্ব প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল রবিবার সকালে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার, ১৪২৪’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব একথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

করোনার সংক্রমণ রোধে সবাইকে সতর্ক থেকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অবস্থা (করোনা) আমরা মোকাবিলা করতে পারব। ইনশাল্লাহ সে বিশ্বাস আমাদের রয়েছে। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা আমরা চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবার যেহেতু মানুষ ব্যাপকভাবে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে গেছে। তাই সবাই একটু সাবধানে থাকবেন। নিজেকে এবং পরিবারকে নিরাপদে রাখবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে নিজেকে এবং অপরকে সুরক্ষিত রাখবেন, সেটা আমার অনুরোধ।’

তার সরকার সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে আমরা গুরুত্ব দিতে চাই কৃষিপণ্য বা খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে। কেননা এই করোনাকালে আমরা যদি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারি তাহলে নিজেদের চাহিদা যেমন মেটাতে পারব তেমনি অন্যকেও সহযোগিতা করতে পারব। আর রপ্তানির ক্ষেত্রেও আমাদের পণ্য বৃদ্ধি করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘ফলমূল, শাক-সবজি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ সবকিছুই আমরা উৎপাদন বাড়িয়ে এটাকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে সেগুলো আমরা বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। কাজেই প্রক্রিয়াজাতকে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই ১০০টি বিশেষ অঞ্চলে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি সেখানে যেন কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে ওঠে, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে ওঠে; যা আমরা বিদেশেও রপ্তানি করতে পারব।’ তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সেদিকে লক্ষ রেখে কাজ করার বিশেষ অনুরোধও জানান।

বাংলাদেশ আর পিছিয়ে নয় এগিয়ে যাবে এ দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘২০০৮ সালের পর থেকে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় থাকতে পারায় আমরা হাতে সময় পাওয়ায় গবেষণায় যেমন উন্নতি করেছি, তেমনি দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে পেরেছি, কেননা জাতির পিতা আমাদের এই স্বাধীন দেশ এনে দেওয়ার সময় এদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন।’ সে চেষ্টা তার সরকার অব্যাহত রেখেছে বলে জানান তিনি।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম স্বাগত ভাষণ দেন এবং পুরস্কার বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন। এছাড়া পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন মায়া রানী বাউল।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ‘বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার ১৪২৪’ প্রদান করেন। যার মধ্যে রয়েছে ৫টি স্বর্ণপদক, ৯টি রৌপ্যপদক এবং ১৮টি ব্রোঞ্জ পদক। কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ৩২ ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ পদক বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলি সম্পর্কিত একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি পরিবেশিত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর বাণী নিয়ে ‘বাণী চির সবুজ’ এবং ‘চিরঞ্জীব’ নামে দুটি স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি খাতের অভূতপূর্ব উন্নয়নের জন্য আমাদের চাষি ভাই-বোনেরা যেমন কৃতিত্ব পাওয়ার দাবিদার, তেমনি আমাদের কৃষিবিজ্ঞানী, সম্প্রসারণ কর্মীরাও সমান কৃতিত্বের অধিকারী।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৪২৪ বঙ্গাব্দে কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ, কৃষিতে নারীর অবদান, বাণিজ্যিক খামার স্থাপন, কৃষি উন্নয়নে প্রকাশনা ও প্রচারণা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহার, বাণিজ্যিক ভিত্তিক বনায়নে অবদান, উচ্চ মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিতরণ ও নার্সারি স্থাপন ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে আজ ৩২ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রদান করা হলো।’ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে, মুজিববর্ষে যারা পুরস্কৃত হলেন, তাদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। বাসস

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত