সীমান্তবর্তী জেলা কুষ্টিয়ায় চলমান লকডাউনের মধ্যেও করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু হার ঊর্ধ্বমুখী।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাব ও সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৫৫টি নমুনা পরীক্ষায় ১৭২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৯ শতাংশ। এই সময়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. এইচ এমন আনোয়ারুল ইসলাম।
কভিড ডেডিকেটেড ঘোষিত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা তাপস কুমার সরকার বলেন, ‘বর্তমান হাসপাতালের শয্যা ছাড়াও করোনাক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবায় অক্সিজেনসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি এখনও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভারতীয় ধরনের এই ডেল্টা ভাইরাস ‘কমিউনিটি পর্যায়ে ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
তবে অন্যান্য রোগজনিত কারণে জরুরি বিভাগে সীমিত সংখ্যক রোগী ব্যাতীত ‘হাসপাতালের অন্য রোগীদের কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও আদ-দ্বীন হাসপাতালে সরিয়ে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলেও জানালেন এই আবাসিক চিকিৎসক।
এদিকে সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হ্ওয়ায় উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা। সে কারণে রবিবার রাত ১২টায় শেষ হওয়া লকডাউনের পরিধি আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত বৃদ্ধি করে আবারও গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
লকডাউন কার্যকর করার জন্য পুলিশ শহরের বিভিন্ন প্রবেশ মুখে চেকপোস্ট বসিয়েছে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করছেন।
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৫৫টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন আক্রান্ত ১৯৫ জনসহ জেলায় অদ্যাবধি মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৫৭ জন হয়েছে।
শনিবার আক্রান্তের হার ৩৯ শতাংশ এবং ৪ জনের মৃত্যুসহ জেলায় মোট মৃত্যু ১৮৯ জন।
উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তবর্তী জেলা কুষ্টিয়ায় ২০ জুন মধ্যেরাত থেকে ২৭ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত ৭ দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি দেয় জেলা প্রশাসন।
