পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের পরপরই রাজ্য বিজেপিতে ভাঙনের ঢেউ লাগে। দলে দলে তৃণমূলে যোগ দিতে শুরু করেন বিজেপি নেতাকর্মীরা। তবে চাইলেই দলবদল করতে পারছেন না সবাই। অনেক ক্ষেত্রেই নতুন করে দলে আসাদের যাচাই-বাছাই করে নেওয়া হচ্ছে। কোথাও গঙ্গার পানি ছিটিয়ে আবার কোথাও স্যানিটাইজার দিয়ে ‘বিজেপি ভাইরাস’ থেকে পরিশুদ্ধ করে দলে বরণ করা হচ্ছে তাদের। এরই মধ্যে প্রবীণ রাজনীতিক মুকুল রায় তৃণমূলে ফেরেন। তাকে কেন্দ্র করে এখন আরেক রাজ্য ত্রিপুরাতেও ভাঙনের মুখে পড়েছে বিজেপি।
ভাঙনের ইঙ্গিত পেতেই তড়িঘড়ি ঘর সামলানোর উদ্যোগ নেয় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু গত দুই দিন ধরে যে পথে এগোচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তাতে বিজেপির আড়াআড়ি বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরায়। ত্রিপুরা বিজেপিতে প্রথম থেকেই দ্বন্দ্ব ছিল দুই গোষ্ঠীর। একটি গোষ্ঠী মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের। অপর গোষ্ঠীটি কংগ্রেস ও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সুদীপ রায়বর্মণের। সুদীপ রায়বর্মণ আবার মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ। ফলে মুকুলের ঘরওয়াপসির পর সুদীপের নেতৃত্বে ত্রিপুরায় ফের তৃণমূলের সংগঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ত্রিপুরায় কেন্দ্রীয় নেতাদের পাঠিয়েছে বিজেপি। তারপর দিল্লিতে সুদীপ রায়বর্মণকে তলব করে বৈঠক করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। অথচ এতদিন সুদীপ রায়বর্মণ দেখা করতে গিয়েও সময় পাননি নাড্ডার। এবার তড়িঘড়ি ডেকে বৈঠকে বসেছেন। সুদীপ এতদিন বিক্ষুব্ধ ছিলেন, তার ক্ষোভ মেটানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
শুধু সুদীপ রায়বর্মণ বা তার অনুগামী বিধায়করাই নন, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা বৈঠক করেছেন ত্রিপুরায় বিজেপির জোটসঙ্গী আইপিএফটি বিধায়কদের সঙ্গেও। মোট কথা সুদীপ রায়বর্মণের অনুসারী এবং আইপিএফটি বিধায়কদের ধরে রাখতে না পারলে ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার বেকায়দায় পড়ে যাবে। ফলে পতনের সম্ভাবনা তৈরি হবে মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বছর আগেই।
প্রশ্ন উঠছে গেরুয়া শিবরে ভাঙন ঠেকানো কি সম্ভব হবে? রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার পড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ। সুদীপ রায়বর্মণের অনুসারী বিধায়করা সরে গেলেই সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে বিপ্লব দেবের সরকার। তারপর যদি আইপিএফটি বিধায়করা বেঁকে বসেন, তবে পতন অনিবার্য হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের উদ্যোগ খানিকটা প্রলেপ দিতে পারে। মন্ত্রী করা হতে পারে সুদীপ রায়বর্মণ গোষ্ঠীর বিধায়ক বা আইপিএফটি বিধায়কদের মধ্য থেকে।
