দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণের হার অনেক বেশি। এ ঘটনায় সেসব এলাকায় গত এপ্রিল মাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, অন্যসব জেলার তুলনায় সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার এখন ঊর্ধ্বমুখী। পাশাপাশি সেসব এলাকায় মৃত্যুও হচ্ছে বেশি। গতকাল সোমবার নিয়মিত বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর ডা. রোবেদ আমিন এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব স্থান দিয়ে বিদেশ থেকে মানুষ আসছেন, সেসব স্থানে যদি আমরা বেশি পরিমাণে হাউজ ট্রেনিং করতে পারি, তাহলে অনেক বেশি উপকার পেতে পারি।’ ঝুঁকিপূর্ণ ৫১ জেলায় র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট অতীব জরুরি মন্তব্য করে রোবেদ আমিন বলেন, ‘এসব জেলায় টেস্ট বাড়ানোর প্রয়োজন। সংক্রমিত জেলার কেউ জ্বর বা জ্বর সংক্রান্ত অন্য কোনো সমস্যায় ভুগলে তার র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট জরুরি। করোনা পজিটিভ না হলেও নন-করোনা চিকিৎসার জন্যও এ টেস্ট দরকার।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘গত ১৯ জুন থেকে ২৬ জুন যেসব অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়েছে, তাতে পজিটিভের সংখ্যা আগের চেয়ে ২৪ শতাংশ বেশি। কিন্তু দেখা গেছে অধিক সংক্রমিত ১৮ জেলার ১৯০টি উপজেলায় র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের সংখ্যা তুলনামূলক কম। তাই চীনের সিনোফার্মের টিকা শিগগিরই দেশের সব জায়গায় দেওয়া হবে। যথাসময়ে টিকা প্রদানের তারিখও জানিয়ে দেওয়া হবে।’
অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা বাংলাদেশ সহসাই পাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি কোভিশিল্ড টিকার স্বল্পতা রয়েছে। এই সংকট খুব দ্রুত শেষ হবে না।’ সরকারের হাতে কত ডোজ কোভিশিল্ড টিকা রয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার সংকট রয়েছে। এর সমাধান চট করেই হয়ে যাচ্ছে বলে আমরা মনে করছি না। কারণ, ভারত থেকে এই টিকা যতটুকু পাওয়ার কথা ছিল তার সমাধান এখনো হয়নি। একইসঙ্গে অন্যান্য স্থান থেকেও এই টিকা পাওয়া সম্ভব না।’
