ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় বিবি কুলসুম (১৩) নামে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর আত্মহত্যার সাত মাস পর তার ধর্ষণকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। আর এ কাজে মূল ভূমিকা রেখেছে ওই কিশোরীর গর্ভের সন্তানের ডিএনএ।
গত বুধবার ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন সোনাগাজী মডেল থানায় আসে। পরের দিন অভিযান চালিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ধর্ষক আবু ইউসুফ নয়নকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও এক সন্তানের জনক।
গত বৃহস্পতিবার আবু ইউসুফকে ফেনীর আদালতে হাজির করা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পুলিশ, কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের মঙ্গলকান্দি গ্রামের নূর আমিনের পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত আবু ইউসুফের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াত করতেন। এরই সূত্র ধরে মঙ্গলকান্দি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী বিবি কুলসুমের সঙ্গে আবু ইউসুফের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এরপর আবু ইউসুফ একাধিকবার কুলসুমের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। এতে সে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিয়ের জন্য চাপ দিলে আবু ইউসুফ অস্বীকার করে। এতে লোকলজ্জার ভয়ে গত বছরের ২৮ নভেম্বর দুপুরে বিষপানে নিজ ঘরে আত্মহত্যা করে কুলসুম। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। রাতে পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুরোধ জানালে মেয়েটির শারীরিক গড়ন দেখে থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম পলাশ আপত্তি জানান।
এ বিষয়ে সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তে কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বার প্রমাণ পাওয়া যায়। বিষের প্রকোপে তার গর্ভের সন্তানেরও মৃত্যু হয়। সে সময় তার ও গর্ভের সন্তানের ডিএনএ সংগ্রহ করে রাখা হয়। এ ঘটনার কয়েক দিন পর নিহতের বাবা নূর আমিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের নামে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন।
তদন্তে নেমে এলাকা এবং এলাকার বাইরে মেয়েটি ও তার পরিবার ঘনিষ্ঠ সন্দেহভাজন পাঁচ যুবকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। গত বুধবার নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে পাঁচজনের মধ্যে আবু ইউসুফের ডিএনএ’র সঙ্গে কুলসুমের গর্ভের সন্তানের ডিএনএ’র মিল পাওয়া গেছে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।
এ বিষয়ে মেয়েটির বাবা নূর আমিন জানান, মেয়ের সঙ্গে আবু ইউসুফ এমন করেছে, তা তারা জানতেন না। এমনকি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের আগে মেয়ের অন্তঃসত্ত্বার বিষয়ও বুঝতে পারেননি। আবু ইউসুফের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
