কাইফেং শহরে নারীদের মসজিদ

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২১, ১১:৩৩ পিএম

বিশ্বজুড়ে সংস্কৃতি আর রীতিনীতির যেমন ভিন্নতা আছে, তেমিন নানা দেশের মুসলিমদের আচার-আচরণেও প্রকারভেদ রয়েছে। এমন বৈচিত্র্যের এক দারুণ দৃষ্টান্ত হলো, চীনে শুধু নারীদের জন্য মসজিদ। যা ওই দেশে বহুকালের এক পরম্পরা।

চীনের হেনান প্রদেশের কাইফেং শহরের ইয়েলো রিভার বা পীত নদীর অববাহিকার ঠিক মাঝখানে মসজিদটি অবস্থিত। সং রাজবংশের প্রাচীন রাজধানী কাইফেং এক হাজার বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর একটি। বর্তমানে প্রায় পাঁচ মিলিয়ন মানুষ কাইফেং নগরে বাস করে।

সপ্তম শতাব্দীতে ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের আগমন ঘটে কাইফেংয়ে। শহরের ওল্ডসিটির সরু গলিগুলোর মধ্যে আজও আছে খ্রিস্টানদের গীর্জা, মুসলিমদের মসজিদ, বৌদ্ধদের প্যাগোডা। এমনকি সেখানে ইহুদি সম্প্রদায় ও তাদের উপাসনালয় সিনাগগও রয়েছে।

কাইফেংয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, শুধু নারীদের জন্য মসজিদ। শুধু নারীদের জন্য কাইফেংয়ে যেসব মসজিদ রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে পুরনো হলো ‘ওয়াংজিয়া গলির মসজিদ।’ এটি নির্মিত হয় ১৮২০ সালে।

স্থানীয়দের মতে, নারীদের জন্য আলাদা মসজিদ চীনের একটি বৈশিষ্ট্য। তবে হেনান প্রদেশেই এমন মসজিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কাইফেং শহরে নারীদের জন্য পৃথক মসজিদ আছে মোট ষোলটি। আশপাশের গ্রামীণ এলাকায় আরও প্রচুর মসজিদে রয়েছে। যদিও ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের বিরাট একটি অংশ মনে করেন, নারীদের এভাবে আলাদা মসজিদের বিধান শরিয়তে নেই। এটা নব

উদ্ভাবিত বিদআত।

তবে চীনের যেটা একমাত্র মুসলিম প্রদেশ, সেই জিনজিয়াংয়ে কিন্তু এমন কোনো মসজিদ নেই। সেখানে সুন্নি মুসলমানের আধিক্য। নারীদের জন্য মসজিদের ধারা উপলব্ধি হয় ষোড়শ শতাব্দীতে। যা পরবর্তী সময়ে বাড়তে থাকে। সেই উপলব্ধি থেকে নারীদের ভিন্ন মসজিদ প্রতিষ্ঠা শুরু। তাদের মতে, ইসলামের প্রচার-প্রসারে নারীদের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। চীনের মুসলিমদের মধ্যে তখন থেকেই মেয়েদের পড়াশোনা করানোর ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হতে থাকে। সে লক্ষে প্রথমে মেয়েদের সহিহ্-শুদ্ধভাবে কোরআনে কারিম ও ধর্মশিক্ষা দেওয়ার জন্য নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। পরে সেগুলোই অষ্টাদশ শতাব্দীতে এসে পুরোদস্তুর মসজিদের রূপ নেয়। পরবর্তী সময়ে এসব মসজিদই হয়ে ওঠে গরিব মুসলিম মেয়েদের পড়াশোনার একমাত্র জায়গা। এখানকার নারীরাই নারীদের দেখাশোনা, শিক্ষা ও বিভিন্ন কর্ম হাতে-কলমে শিখিয়ে থাকে।

১৯৪৯ থেকে চীনে মুসলিম মেয়েদের মর্যাদা অনেক বেড়েছে, আর শুধু মেয়েদের জন্য এই মসজিদগুলো সেই প্রক্রিয়ারই এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করছেন কাইফেংয়ের মুসলিম নারীরা।

প্রসঙ্গত, চীনে সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পাঁচটি প্রধান ধর্মের মধ্যে অন্যতম ইসলাম। চীনে প্রায় ২ কোটির বেশি মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষের বসবাস। সর্বাধিক ইসলাম ধর্ম মেনে চলেন উইঘুর সম্প্রদায়। সে দেশের জিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা সর্বাধিক। জিনজিয়াং প্রদেশে ২৪ হাজার মসজিদ রয়েছে বলে চীনের দাবি। তবে উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর দমন নীতির একাধিক অভিযোগ রয়েছে চীনা প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত