বিদেশগামী কর্মীদের করোনার টিকা গ্রহণের জন্য দ্বিতীয় ধাপে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার অনলাইনে এর উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। এ সময় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
ইমরান আহমদ বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সৌদি আরব ও কুয়েতের প্রবাসী কর্মীরা বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দিয়ে খুব সহজেই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। এরপর ঢাকার নির্দিষ্ট সাতটি কেন্দ্রে গিয়ে ফাইজারের টিকা নিতে পারবেন। পরে অন্যান্য দেশের প্রবাসী কর্মীদের টিকা দেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব যেতে হলে করোনার টিকা গ্রহণ করতে হচ্ছে। টিকা না নিয়ে গেলে দেশটিতে সরকার নির্ধারিত হোটেলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে। এতে অনেক বেশি খরচ পড়ছে। একই অবস্থা কুয়েতেও। দেশ দুটির সরকার ফাইজারের টিকা ছাড়া অন্য টিকা গ্রহণ করছে না। এদিক বিবেচনায় সরকার প্রবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফাইজারের টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। টিকা পেতে প্রথমে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) নিবন্ধন করতে হয়েছে প্রবাসীদের।
অনলাইনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সুরক্ষা অ্যাপে এনআইডি দিয়ে নিবন্ধনের পাশাপাশি বিশেষভাবে আরেকটি অপশন চালু করা হয়েছে। যেখানে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। নিবন্ধন (পাসপোর্ট) অপশনে ক্লিক করলে একটি পাতা চালু হবে। সেখানে শ্রেণি (ধরন) নির্বাচন করতে হবে। এখানে তিনটি ধরন আছে, সেখান থেকে বিদেশগামী বাংলাদেশি কর্মী নির্বাচন করলে আরেকটি উপশ্রেণি দেখানো হবে। উপশ্রেণিতে দুই ক্যাটাগরি আছেÑ সৌদি আরব ও কুয়েতগামী বাংলাদেশি কর্মী এবং অন্যান্য দেশে বিদেশগামী কর্মী। অপশন নির্বাচন করার পর একটি পাতা চালু হবে। সেখানে পাসপোর্ট নম্বর, জন্ম তারিখ এবং সিকিউরিটি কোড প্রদান করতে হবে। এ সময় একটি ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) নম্বর মোবাইল ফোনে চলে আসবে। সেই নম্বর প্রবেশ করে বাকি তথ্য যেমনÑ কোন কেন্দ্রে টিকা নেবেন, পেশা ইত্যাদি তথ্য দেওয়ার পর সাবমিট করতে হবে। নিবন্ধন শেষ করার আগে আরেকটি ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) নম্বর মোবাইলে চলে যাবে। সেটি উল্লেখ করলেই নিবন্ধন সম্পন্ন হবে। এরপর ফাইজারের টিকা নেওয়ার জন্য রাজধানী ঢাকার নির্ধারিত কেন্দ্রে আসতে হবে। কেন্দ্রগুলো হলোÑঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। অন্যান্য দেশে গমনকারী কর্মীদের ক্ষেত্রে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সারা দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সরকারি হাসপাতাল থেকে নেওয়া যাবে এই টিকা। তবে সুরক্ষা অ্যাপে সেই কেন্দ্র নির্বাচন করেই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলম বলেন, ‘ফাইজারের টিকা প্রদানের প্রক্রিয়া বেশ জটিল। তাই দিনে এক কেন্দ্রে ২০০ মানুষের বেশি আমরা দিতে পারব না।’
প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় আন্তরিক। সেখানে কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা আমরা সমাধানের জন্য বেশ কয়েক দিন ধরে চেষ্টা করছি। সবার অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা আজকে এই বিশেষ রেজিস্ট্রেশন উন্মুক্ত করতে যাচ্ছি।’
