করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় বিশ্বজুড়েই এখন ভ্যাকসিনকে অন্যতম প্রতিরোধী ব্যবস্থা হিসেবে ধরা হচ্ছে। কিন্তু টিকা দেওয়া ছাড়াও আক্রান্তদের হাসপাতালগুলোতে অন্য অনেক ওষুধও দেওয়া হচ্ছে। ভারতে গত এপ্রিল-মেতে যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দেখা যায়, তখন প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় সংক্রমণ নিয়ে। এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে টিকা দিতে না পারা গেলেও অন্য ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। ওই চিকিৎসার ফলে সংক্রমিতদের মধ্যে মিউকরমাইকোসিস (ব্ল্যাক ফাঙ্গাস), ডায়াবেটিক, ব্লাড কট, হৃদরোগ, শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা ইত্যাদি রোগ দেখা দিতে থাকে। এর মধ্যে বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ হয় ব্ল্যাক ফাঙ্গাস।
কিন্তু এবার দেখা দিয়েছে বোন ডেথ। ভারতের মহারাষ্ট্রে অনেক চিকিৎসারত সংক্রমিত ব্যক্তি বোন ডেথের শিকার হচ্ছেন বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, করোনাপরবর্তী জটিলতাগুলোর মধ্যে নতুন যুক্ত হয়েছে অ্যাভাসকুলার নেকরোসিস (এভিএন), যা ডেথ অব বোন টিস্যু নামেও পরিচিত। মুম্বাইয়ে ইতিমধ্যে তিনজন এই জটিলতায় মারা গেছেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী মাসগুলোতে বোন ডেথে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
হাড়ে রক্ত চলাচল স্বল্পতার কারণে অস্টিওনেক্রোসিস রোগের সৃষ্টি হয়। কারও হাড়ে যদি সামান্যতম চিড়ও থাকে, তাহলে হাড়ের টিস্যুতে রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। শুধু যে হাড়ের ফাটল বা চিড় থাকলেও এমন হবে তা নয়। কারও যদি হাড় সন্ধিতে সমস্যা থাকে তিনিও এতে আক্রান্ত হতে পারেন। বলা হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানের কারণে এই রোগে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
এভিএনের তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় বলে এখনো চিকিৎসকরা নিশ্চিত হতে পারেননি। তবে কারও অবস্থা বেশি খারাপ হলে হাড় সন্ধিতে ব্যথা ও ওজন বৃদ্ধির মতো উপসর্গ দেখা যায়। শুয়ে থাকলেও ওই ব্যথা অনুভর করা যায়। কারও কারও ব্যথা কম-বেশি হতে পারে। তবে ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকে। এ ছাড়া কাঁধ, হাঁটু, হাত ও পায়ের পাতায় ব্যথা এই রোগের উপসর্গ বলে গণ্য করা হচ্ছে।
