করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার রাতে মারা গেছেন ছেলে গিয়াস উদ্দিন। এর আগে করোনা উপসর্গ নিয়ে শুক্রবার মারা যান তার বাবা বেলায়েত হোসেন চৌধুরী। পরশুরাম পৌর শহরের কোলাপাড়া এলাকায় এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা জানান, কিছুদিন ধরে বেলায়েত (৮০) নানা উপসর্গে ভুগছিলেন। শুক্রবার নিজ বাড়িতে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর পর ছেলে গিয়াস উদ্দিনও অসুস্থ হয়ে পড়েন। করোনা পরীক্ষার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রবিবার নমুনা দেন। মঙ্গলবার নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাব থেকে প্রেরিত প্রতিবেদনে তার শরীরে করোনা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়।
পরিবার সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে শ্বাসকষ্ট অনুভব হলে অক্সিজেনের জন্য ‘হ্যালো অক্সিজেন’ সেবায় খবর দেওয়া হয়। উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ইয়াছিন শরীফ মজুমদার ও তার সহযোগী সিলিন্ডার নিয়ে রাত ১০টার দিকে ওই বাড়িতে যাওয়ার আগেই গিয়াস উদ্দিন মারা যান।
করোনায় মারা যাওয়া গিয়াস উদ্দিনকে বুধবার সকাল ৯টায় স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বে দাফন করা হয়েছে।
পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর কোলাপাড়ার কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন জানান, করোনায় গিয়াস উদ্দিন নামে একজনের মৃত্যুর খবর তিনি শুনেছেন। ওই ব্যক্তি শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার এক ছেলে রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক আফতাবুল আলম তার মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার গিয়াস উদ্দিনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে। হঠাৎ করে রাতেই তিনি মারা যান। ফলে চিকিৎসা দেওয়ার আর সুযোগ পাওয়া যায়নি।
ফেনীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে সদরে ৫৪, দাগনভূঞায় ৭, ছাগলনাইয়ায় ২০, পরশুরামে ১৩ ও ফুলগাজীর চারজন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে একজনের।
