বন্যায় সড়ক ভেঙে শাহজাদপুরের ৫ গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২১, ০৯:৩৯ পিএম

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের রূপসী-ঘাটাবাড়ি সড়কের ঘাটাবাড়ি ব্রিজের পশ্চিম সড়ক বুধবার ভোরে বন্যার পানিতে ভেঙে গেছে। ফলে ওই এলাকার পাঁচ গ্রামের চার হাজার মানুষের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গ্রামগুলো হলো রূপসী, ঘাটাবাড়ি, জালালপুর, পাকুরতলা ও কুঠিরপাড়া।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানান, দু বছর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৮ ফুট দীর্ঘ কংক্রিট ব্রিজটি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করা হয়। ফলে বর্ষার শুরুতে সামান্য বন্যার পানির চাপে পশ্চিম অংশের সড়ক ভেঙে গেছে। ব্রিজটির পাশ্চিম-দক্ষিণ অংশ তিন সেন্টিমিটার দেবে গেছে। এ ছাড়া পশ্চিম-উত্তর কোণার গাইড ওয়াল ভেঙে বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি নির্মাণে দুর্নীতি না হলে এ অবস্থা হতো না।

এ বিষয়ে জালালপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মহির উদ্দিন বলেন, বন্যার পানির চাপে সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসীর যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত সময়ের মধ্যে বালুভর্তি জিওটেক্স বস্তা দিয়ে ডাম্পিং করা না হলে এ ভাঙনের পরিধি আরো বৃদ্ধি পেয়ে এলাকার বাড়িঘর বন্যার পানিতে ডুবে যাবে।

তিনি আরো বলেন, সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় এ এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

এ বিষয়ে জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বলেন, সকালেই ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা ও পিআইও আবুল কালাম আজাদকে জানানো হয়েছে। তারা অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলে ওই স্থানের ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এদিকে ওই  পাঁচ গ্রামের নদী তীরবর্তী বাড়িঘর যমুনা নদীর অব্যহত ভাঙনের ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২০টি বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জালালপুর গ্রামে বস্তা ডাম্পিং শুরু করায় ওই গ্রামের ভাঙনের তীব্রতা কমে এলেও দক্ষিণ পাশের ঘাটাবাড়ি ও পাকুরতলা গ্রামে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে।

এ ছাড়া যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় শাহজাদপুর উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের নিচু এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। তিল, ভুট্টা, কাউন, গামাঘাস ও নেপিয়ার ঘাসের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

অপরদিকে জেলার ৯ উপজেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার আব্দুল লতিফ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি স্থির অবস্থায় রয়েছে। ফলে এ দিন বন্যার পানি আর বৃদ্ধি পায়নি।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বন্যার পানি বিপদ সীমার ৮৫ সেন্টিমিটার নিচ নিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত