হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভনেল ময়িজকে গত বুধবার তার বাড়িতে হত্যা করা হয়েছে। ফার্স্ট লেডিও গুরুতর আহত হয়েছেন। দুই দফার ভোটে জিতে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি শপথগ্রহণ করেন। দায়িত্ব নিয়ে ময়িজ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, দায়িত্ব নিয়ে ময়িজ একনায়কের মতো আচরণ শুরু করেন। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই হত্যার শিকার হলেন তিনি। এর ফলে চরম দারিদ্র্য আর অপরাধের স্বর্গরাজ্যখ্যাত দেশটি পড়েছে নতুন অনিশ্চয়তায়।
১৯৫৭ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ফ্রাসোয়া ডুভালিয়ে ও তার ছেলে জ্যঁ ক্লদ ডুভালিয়ের একনায়ক শাসনামল শেষ হওয়ার পর হাইতিতে মাঝেমধ্যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে আছে চরম দারিদ্র্য আর অপরাধ। শুধু এ বছরেই ক্রিমিনাল গ্যাংদের কারণে হাজার হাজার মানুষ ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
ইউনিসেফে হাইতির প্রতিনিধি ব্রুনো মাস গত মাসে হাইতির গ্যাং পরিস্থিতিকে গেরিলা যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। আর হাইতির ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ডিফেন্স নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক পিয়ের এসপেরাঁস বলছেন, হাইতির প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন ক্রিমিনাল গ্যাং। এরা মাঝেমধ্যেই পুলিশ ও সেনাসদস্যদের ওপর হামলা চালায়। প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালে একজন একনায়কের পতনের পর হাইতিতে সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করা হয়েছিল। এরপর ২০১৭ সালে পুনরায় তা গঠন করা হয়।
এর মধ্যেই গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দ্বন্দ্ব বাড়ছিল। কারণ বিরোধীরা দাবি করছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ময়িজের মেয়াদ শেষ। কিন্তু ময়িজের যুক্তি ছিল তিনি ২০১৫ সালে নির্বাচনে জিতলেও শপথ নিয়েছেন ২০১৭ সালে। সুতরাং তার মেয়াদ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। এরপরও বিরোধীদের দাবির মুখে ময়িজ সেপ্টেম্বরে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর মধ্যেই গত এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী জোসেফ জুট পদত্যাগ করেন। এরপর ক্লদ জোসেফকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী করা হয়। তবে খুন হওয়ার এক দিন আগে নিউরোসার্জন আরিয়েল হেনরিকে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ময়িজ। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের সভাপতির এখন দায়িত্ব নেওয়ার কথা। কিন্তু তিনি সম্প্রতি করোনায় মারা গেছেন। ফলে নতুন নেতা হিসেবে একজনকে নির্বাচিত করার কথা জাতীয় পরিষদের। সেটাও সম্ভব নয়। কারণ বর্তমানে কার্যকর কোনো জাতীয় পরিষদ নেই। নিম্নকক্ষের সব সদস্য ও সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যেরও মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী জোসেফকেই এখন কাজ চালিয়ে যেতে হতে পারে।
