জলবায়ুর ক্ষতি কাটাতে অর্থায়নে প্রতিশ্রুত তহবিল ছাড় করতে উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্ব সম্প্রদারের উচিত জনগণের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন, অভিন্ন আশা-আকাক্সক্ষা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও কভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতি দেওয়া।
গতকাল বৃহস্পতিবার ‘ভি২০ ক্লাইমেট ভালনারেবল ফাইন্যান্স সামিট’ উদ্বোধন করে এই আহ্বান জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা ভার্চুয়াল এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী গতকাল গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হন।
কার্বন নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জলবায়ু অর্থায়নের জন্য প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার দিতে যে ঐকমত্য এসেছিল, তা ছাড় করার ওপর আমরা নির্ভর করছি। একই সঙ্গে ঢাকা-গ্লাসগো ঘোষণা অনুযায়ী কপ ২৬ ও সিভিএফের একটি যৌথ প্রকল্প নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় পাঁচটি প্রস্তাবও সম্মেলনে দেন শেখ হাসিনা। এগুলো হলো ১. বৈশি^ক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বছরে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে প্রতিটি দেশেরই গ্রিন হাউজ গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে লক্ষ্যমাত্রা আবশ্যিকভাবে নির্ধারণ।
২. সিভিএফ-ভি২০ দেশগুলোর সবুজ পুনরুদ্ধারে উন্নত রাষ্ট্রগুলোর সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো।
৩. তহবিল ছাড় ক্রমবর্ধমনভাবে বাড়ানো। উন্নয়ন সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল বরাদ্দ ও ছাড়ে একটি সহজ প্রক্রিয়া গ্রহণ।
৪. জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ থেকে রক্ষায় সিভিএফ-ভি২০ রাষ্ট্রগুলোকে ধনী রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা বাড়ানো।
৫. ঝুঁকিতে থাকা সব দেশই ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনার মতো জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিভিএফ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থেকে বের হয়ে একটি টেকসই জলবায়ু সহনশীল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং এরপর জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল ব্যবস্থা থেকে জলবায়ু সমৃদ্ধির দিকে এগোতে একটি নতুন জলবায়ুসমৃদ্ধ কার্যক্রম শুরু করেছে।
জলবায়ুঝুঁকির সূচক ২০২০-এর মতে, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। কভিড-১৯ মহামারী ও দীর্ঘ স্থায়ী বন্যা ও ২০২০ সালে আঘাত হানা সুপার সাইক্লোন আম্পানের কারণে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি লাখ লাখ মানুষ জীবিকা হারিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর আমরা আমাদের জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বা প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই জলবায়ু সহনশীল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যয় করি।
সিভিএফ দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেজ, গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশনের চেয়ার বান কি-মুন, ভি২০ দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী, জি৭ ও জি২০ভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রী ও প্রতিনিধি, আইএফআইএস ও এমডিবিএসের প্রধান এবং অংশীদাররা এই সম্মেলনে অংশ গ্রহণ করেন।
