নারায়ণগঞ্জের আলোচিত কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা আইসিটি মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা থানার ওসি (তদন্ত) তরিকুল ইসলাম।
সাঈদা আক্তার ওরফে সায়েদা শিউলি নামে এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ী গত ১৬ মে রাতে ফতুল্লা থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ফেরদৌসী আক্তার মুসকান ওরফে রেহেনা নামে আরেক নারীকেও অভিযুক্ত করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, কাউন্সিলর খোরশেদ ও ফেরদৌসী আক্তার মুসকানের বিরুদ্ধে ছয়জন সাক্ষী দেখিয়ে দুজনের দেওয়া দুটি ফেসবুকের বক্তব্য ভিডিও, একাধিক আলামতসহ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
মামলার বাদী সায়েদা শিউলি গতকাল বিকেলে দেশ রূপান্তরকে জানান, চার্জশিটে তিনি খুশি। এখন আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচার শুরু করা এবং উপযুক্ত রায় যেন দেওয়া হয় এমন দাবি করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, বাদী সায়েদা শিউলি নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়ানের সভাপতি এবং গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও বিজিএমইর সদস্য। ব্যবসার কাজে প্রায়ই তাকে দেশের বাইরে অবস্থান করতে হয়। বিবাদী খোরশেদের সঙ্গে তার পরিচয় ছোটবেলা থেকে। আগে তার একবার বিয়ে হয়েছিল। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়। সে ঘরে সন্তানও রয়েছে। পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে খোরশেদ এবং বাদী ফেসবুক মেসেঞ্জারে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করতেন। একপর্যায়ে খোরশেদ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ২০২০ সালের ২ আগস্ট কাঁচপুর এসএস ফিলিং স্টেশনে কাউন্সিলর খোরশেদ নিজেই কাজি নিয়ে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে তাকে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর তিনি এবং খোরশেদ বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে রাত্রিযাপন করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে খোরশেদ তার সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ অবস্থায় তিনি ব্যবসায়িক কাজে দুবাই চলে গেলে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল খোরশেদ ফেইসবুক লাইভে এসে তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর, মানহানিকর তথ্য উপস্থাপন করেন এবং নানা বাজে মন্তব্য করে কুৎসা রটান। এর এক দিন পর ২৫ এপ্রিল আরটিএন ফেরদৌস আক্তার রেহানা ওরফে রেহানা মুসকান নামে এক নারী খোরশেদ খন্দকারের বাসায় বসে লাইভে এসে তার সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করে। তাকে রাস্তার মেয়েদের সঙ্গে তুলনা করে আপত্তিকর কথাবার্তা বলে এবং তার চুল কেটে ফেলা হবে বলেও ফেইসবুক লাইভে বলেন।
মামলার পর থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খোরশেদ আত্মগোপনে রয়েছেন। তার পক্ষে স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনা করোনাকালে টিম খোরশেদের যাবতীয় কর্মকা- পরিচালনা করে আসছেন। মামলার অভিযোগপত্র প্রসঙ্গে কাউন্সিলর খোরশেদের স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতি করার জন্য কিছু প্রভাবশালী লোকের সহায়তায় ওই মহিলা এ ধরনের ষড়যন্ত্র করছেন। আমাদের হয়রানি থেকে বাঁচানোর জন্য আমি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও পুলিশপ্রধানের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
