অবৈধ ‘বাংলা ড্রেজারে’ স্কুলের পুকুর খনন

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২১, ০১:০৭ এএম

টাঙ্গাইলের বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুর খনন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ বাংলা ড্রেজার। খোদ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম ওই প্রকল্পে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে পুকুর খনন করে সেই মাটি দিয়ে মাঠ ভরাট করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে পুকুর খননকাজ শেষ হওয়ার আগেই বরাদ্দের ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাখাওয়াত হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির চতুর্থ পর্যায়ে বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরের পাড় মেরামত ও পুকুর খননকাজের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পুকুর খনন করে সেই মাটি দিয়ে পাড় সংস্কার করার কথা থাকলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম পুকুরটিতে অবৈধ ড্রেজার বসিয়েছেন। এতে করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় এবং ওই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনা হুমকিতে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একই অর্থবছরে বাসাইল উপজেলা খেলার মাঠ ভরাট প্রকল্প দেখিয়ে ২ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন সময়ে অন্তত ৭ লাখ টাকার বেশি উত্তোলন করেছেন তিনি। আগে বরাদ্দকৃত অর্থের ১০ ভাগ কাজও হয়নি। বরাদ্দ হওয়া অর্থ বৈধ করতেই পুকুর খনন প্রকল্পের মাটি অবৈধ ড্রেজার দিয়ে তুলে নিয়মবহির্ভূতভাবে মাঠ ভরাট করছেন।

পুকুরটির পশ্চিম পাশের বাসিন্দা মোশারফ হোসেন শামীম, হারুন ও সেখ জাকির হোসেন সেলিমের স্ত্রী রুনা আক্তার বলেন, বিভিন্ন সময়ে পুকুর থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় ইতিমধ্যে পুকুরের পাড় ভেঙে গেছে। পুকুর খনন করে সেই পাড় সংস্কার করার কথা থাকলেও উপজেলা চেয়ারম্যান ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পুকুর খননে ড্রেজার ব্যবহার করছেন। আমরা নিষেধ করলেও তিনি তা শোনেননি।

তারা আরও বলেন, যে ইউএনও অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান চালান, সেই কর্মকর্তার অফিসের ১০০ মিটারের মধ্যেই ড্রেজার চলে, তিনি তা না দেখার ভান করে রয়েছেন। পুকুরটির পাড় ভেঙে গিয়ে আমাদের নিজস্ব সড়কে ভাঙন ধরেছে। এভাবে বালু তোলা অব্যাহত থাকলে আমারদের বাড়িঘর রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

এ বিষয়ে বাসাইল পৌরসভার মেয়র আবদুর রহিম বলেন, পৌর এলাকায় যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে পৌর প্রশাসনকে অবগত করার বিধান রয়েছে। পুকুর ও মাঠটি পৌর শহরের মধ্যে হলেও আমাকে কোনো কিছুই জানানো হয়নি।

পুকুর খনন প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহাদৎ হোসেন খান বলেন, মাঠটিতে স্টেডিয়াম হবে, তাই মাঠটি ভরাট করা প্রয়োজন। বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর হোসেন বলেন, ড্রেজার অবৈধ। এরপরও দেশের বড় বড় নানা মেগা প্রকল্পের কাজ ড্রেজার দিয়েই সম্পন্ন হচ্ছে।

বাসাইল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, মাত্র ৩ লাখ টাকা বরাদ্দের এ প্রকল্পে ভেকু দিয়ে খনন ও মেরামতের ব্যয় বহন করা সম্ভব নয় বলেই ড্রেজার দিয়ে স্কুলের পুকুরটি খনন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের সংবাদ প্রকাশ না করার জন্যও তিনি অনুরোধ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত