সাভারে ধারের পাঁচ হাজার টাকা ফেরত চাওয়ায় আপন খালুর হাতে প্রাণ গেল আট বছর বয়সী শিশু রাজিয়ার।
রবিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে নিখোঁজের তিনদিন পর সাভারের রাজফুলবাড়ীয়া রাজাঘাট এলাকার একটি বিলের মধ্যে কচুরিপানার মধ্যে থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত খালু নাজমুলকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজিয়াকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
নিহত রাজিয়া সুলতানা রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার পায়রাবতি বিষ্ণুপুর এলাকার আব্দুল জলিলের মেয়ে। সে সাভারের তরফ রাজাঘাট এলাকায় সোহেলের বাড়িতে পোশাক শ্রমিক বাবা-মায়ের সাথে ভাড়া থাকতো।
অন্যদিকে হত্যাকারী নাজমুল রংপুর জেলার পীরগাছা থানার চৌধুরানী এলাকার বাসিন্দা। তিনি নিহত রাজিয়ার আপন খালু।
থানা পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত নাজমুল ও রাজিয়া সুলতানাসহ তার বাবা-মা রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় ভাড়া থেকে পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। কিছু দিন আগে নাজমুল রাজিয়ার মায়ের একজোড়া কানের দুল বন্ধকের কথা বলে বিক্রি করে দেন। সেই কানের দুলের জন্য তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে তা ফেরত দিতে বাধ্য হন নাজমুল। পরবর্তীতে তিনি আবারো রাজিয়ার বাবার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ধার নেন। সেই টাকা ফেরত চাইলেই ক্ষিপ্ত হন তিনি।
পরে গত ৯ জুলাই বিকেলে ধারের পাঁচ হাজার টাকার ফেরত দেওয়া কথা ছিল। ওইদিনই কৌশলে নাজমুল কাউকে না জানিয়ে রাজিয়া সুলতানাকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে সাভারের তরফ রাজাঘাট এলাকার একটি বিলের পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখেন।
এদিকে রাজিয়াকে খোঁজাখুঁজি না পেয়ে তার বাবা শনিবার সাভার থানায় একটা নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে নাজমুল রাজিয়ার মায়ের কাছে ফোন করে বলে রাজিয়া তার কাছে আছে ভালো আছে।
এ ঘটনায় শনিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাজমুলকে আটক করা হলে তিনি আজ রাজিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
এরপর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তরফ রাজাঘাট এলাকার বিলের মধ্যে কচুরিপানার নিচ থেকে রবিবার রাত দুইটার দিকে নিখোঁজ রাজিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
