উপসাগরীয় অঞ্চলের ছোট রাষ্ট্র বাহরাইনে গত এক দশকে দণ্ড হিসেবে মৃত্যু দেওয়া বেড়েছে ৬০০ গুণ। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও বাহরাইন ইনস্টিটিউট ফর রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসির (বিআইআরডি) করা গবেষণায় বলা হচ্ছে, দেশটিতে ২০১১ সালের আরব বসন্তের পর থেকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার হার বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। আরব বসন্তে যুক্ত থাকার অভিযোগে অন্তত ৫১ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
বাহরাইনে গত দশকে সাত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। যৌথ ওই রিপোর্টে ‘সন্ত্রাসবাদ’ সম্পর্কিত মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি অধিক জায়গা পায়। দেশটির সরকার বিগত কয়েক বছরে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের কথা বললেও, বাস্তবে তা হয়নি। ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় বিক্ষোভ-প্রতিবাদে অংশ নেওয়াদের মধ্যে ৮৮ শতাংশকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির সরকার। এছাড়া ওই একই অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হওয়া সবাইকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলেও রিপোর্টে বলা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবারও দেশটিতে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ১১ জনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। বাহরাইনের আদালত থেকে প্রাপ্ত নথি বলছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা সবাই আদালতের সামনে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে। বাহরাইনে এর আগে এত মৃত্যুদণ্ড দিতে দেখা যায়নি। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দেশটির ক্ষমতাসীনরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। দেশটিতে যারাই গণতন্ত্রপন্থি হিসেবে পরিচিত তাদের প্রায় সবাইকেই বিভিন্ন অভিযোগে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিআইআরডির নির্বাহী প্রধান সায়েদ আহমেদ আলওয়াদায়ি বলেন, ‘বাহরাইনের শাসকরা বিরোধীদের মত দমন করতে সরকারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডকে ব্যবহার করছে, যা নিঃসন্দেহে ঘৃণ্য কাজ। যেকোনো মুহূর্তে তাদের শিরেদ করা হতে পারেএমন তীব্র ভয় নিয়ে কারাগারে দিন কাটছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারগুলোও ভয়ের মধ্যে বাস করে।’ বাহরাইন কর্র্তৃপক্ষ অবশ্য অস্বীকার করেছে যে, তারা বিরোধীদের দমন করতে ও জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে মৃত্যুদণ্ডকে ব্যবহার করছে। উল্টো বাহরাইন দাবি করছে যে, ইরানের প্রশিক্ষিত বিক্ষোভকারীরা মানামার সরকারকে উৎখাতে সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। যদিও ইরান এমন দাবি অস্বীকার করেছে।
