পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রধান সড়কগুলোর বেহালদশা। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি সড়কের পিচ উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঝুঁকি নিয়ে চলছে গণপরিবহনসহ অন্যান্য যানবাহন। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।
সরেজমিন বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার কারণে এসব ভাঙা রাস্তায় পানি জমে আরও বড় গর্ত হয়ে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন আগে বগাবন্দর থেকে মিলঘর যাওয়ার পথে ঢাকা থেকে আসা দশমিনাগামী একটি মালবাহী ট্রাক রাস্তার মাঝে চাকা দেবে গিয়ে আটকে যায়। এতে প্রায় ৪ ঘণ্টা ওই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ ছিল। বাউফল-পটুয়াখালী সড়কের ভাঙ্গাব্রিজ থেকে লোহালিয়া পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে পিচ ও ইটের খোয়া উঠে গিয়ে মাটি বেরিয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ৫০টি স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টির পানি জমে ডোবা-নালার মতো তৈরি হয়েছে। এসব গর্তে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন ব্যাটারিচালিত অটো, টমটম ও ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন। এছাড়া উপজেলার নওমালা থেকে কালাইয়া বন্দর, দাসপাড়া কাঠেরপুল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাজিরপুরের বাংলাবাজার থেকে কালাইয়া বড়ব্রিজ, কালিশুরি বাজার থেকে বাহেরচর বাজার, বাহেরচর থেকে বগাবন্দর, হিরুমিয়া থেকে কনকদিয়া বাজার, নুরাইনপুর বাজার ব্রিজ থেকে তেঁতুলিয়া পাড়সহ উপজেলার প্রায় ২০০ কিলোমিটার রাস্তা এই বর্ষায় বেহাল আকার ধারণ করেছে। অসংখ্য স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কলেজ থেকে উপজেলা-নাজিরপুর সংযোগ ব্রিজ পর্যন্ত ব্যাপক ভাঙন ও রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
নওমালা ইউনিয়নের বাসিন্দা কালাম হাওলাদার বলেন, ‘নওমালা থেকে জেলা সদরের দূরত্ব ১৫ কিলোমিটারের মতো। এরমধ্যে ৮ কিলোমিটারের বেশি অংশই ভাঙাচোরা গর্তে ভরা। পায়ে হেঁটে যাওয়াই কষ্টকর, সেখানে যানবাহন চলবে কী করে। অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগী পরিবহন করতে হলে ১০ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে অন্য রাস্তা দিয়ে জেলায় যেতে হয়।’
উপজেলা প্রকৌশলী মো. সুলতান হোসেন বলেন, উপজেলার প্রায় ২০০ কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার প্রয়োজন। বগা থেকে মিলঘর এবং ভাঙ্গাব্রিজ থেকে হাতেম আলী মৃধা বাড়ি পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের অনুমোদন হয়ে গেছে, অচিরেই কাজ শুরু হবে। এছাড়া কালাইয়া-পটুয়াখালী সড়কের কাজও অনুমোদন হয়েছে। কালাইয়া বন্দর থেকে খুব শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে।
