রূপগঞ্জে কারখানায় আগুন

পরিদর্শনে গিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২১, ০৪:০২ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এ সময় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিকসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাসেম ফুডস কারখানার সামনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, গতকাল দুপুর ২টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধিদল কর্ণগোপ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানা ভবন পরিদর্শনে আসে। প্রতিনিধিদলটি কারখানার মূল ফটকের সামনে এসে পৌঁছলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারসহ তার সমর্থকরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুসহ তার সমর্থকরাও সেখানে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা হাতাহাতি ও বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কেন্দ্রীয় নেতারা চলে যাওয়ার পর হাসেম ফুড লিমিটেড কারখানার সামনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিএনপির উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরের ক্যামেরা পারসন মাকসুদুল আলম তুষার, গ্লোবাল টেলিভিশনের রূপগঞ্জ প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর মাহমুদ, বাংলাদেশ বুলেটিনের রূপগঞ্জ প্রতিনিধি সাজেদুর রহমান এবং তারাব পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন, ছাত্রদল নেতা মাসুম বিল্লাহ, পারেভজ, মামুনসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পথচারীসহ এলাকাবাসীর মাঝে। পরে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

রূপগঞ্জ থানার ওসি এএফএম সায়েদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

গতকালের সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাদের মধ্যে যেকোনো সময় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর মাঝে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে রূপগঞ্জে বিএনপির অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের দলীয় কোনো কর্মসূচিও পালন করতে দেখা যায় না। এতদিন তৈমূর ও দিপু সমর্থকদের মাঝে প্রকাশ্য কোনো সংঘাত না হলেও গতকাল তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাসেম ফুড লিমিটেড কারখানার ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনাস্থল বিএনপির প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করুক তা তৈমূর আলম খন্দকার চাননি। যার ফলে এ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করিয়েছেন।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তৈমূর আলম খন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যারা ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা দলের মধু খাইতে আইছে। তারা তো দলের জন্য কাজ করে না বরং দলের বদনাম করে।’

গত ৮ জুলাই বিকেলে হাসেম ফুড কারখানার ছয়তলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকা- ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত