২২ আফগান কমান্ডোকে হত্যার ভিডিও প্রকাশ

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২১, ০৯:০৩ এএম

স্পষ্ট কিন্তু এলোমেলোভাবে ধারণ একটি ভিডিওতে শোনা যায়, ‘আত্মসমর্পণ করো কমান্ডোরা, আত্মসমর্পণ করো।’ এরপর নিরস্ত্র কয়েকজন মানুষকে একটি বাড়ি থেকে বের হতে দেখা যায়।

তারপর গুলির শব্দ। এতে কমপক্ষে এক ডজন মানুষ মারা যায়। যাদের মুখে কান্নার সঙ্গে শোনা যায়, ‘আল্লাহু আকবর’।

সদ্য প্রকাশিত এক ভিডিওর বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, নিহত ব্যক্তিরা আফগান স্পেশাল ফোর্সের সদস্য। তাদের গুলি করে হত্যা করেছে তালিবানেরা।

তুর্কমিনিস্তান সীমান্তবর্তী ফারিয়ব প্রদেশের দৌলত আবাদ শহরে ১৬ জুন এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনাটির একাধিক ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছে বলে জানায় সংবাদ মাধ্যমটি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই পক্ষের মাঝে এ এলাকায় ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। পরে তালিবানদের হাতে আত্মসমর্পণ করে আফগান সেনারা।

৪৫ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে স্থানীয় পশতু ভাষায় একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘তাদের গুলি করো না, গুলি করো না। আমি অনুরোধ করছি তাদের গুলি করো না।’

একই ব্যক্তিকে পরে বলতে শোনা যায়, ‘কীভাবে পশতুন হয়ে আফগানদের হত্যা করছেন?’

পাশতুনরা আফগানিস্তানের প্রধান নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী।

এ দিকে রেড ক্রস নিশ্চিত করেছে, তারা ২২ জন কমান্ডোর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।

তবে সিএনএনকে তালিবানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গুলির ভিডিওটি ভুয়া। জনগণকে আত্মসমর্পণ না করার জন্য সরকার এ অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তালিবান মুখপাত্র জানান, তাদের হাতে ফারিয়ব প্রদেশে বন্দী ২৪ জন কমান্ডো রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি।

দৌলত আবাদের লড়াইয়ের তিন দিন পর তালিবানদের পক্ষে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখান দেখা যায়, তারা সামরিক ট্রাক ও অস্ত্র জব্দ করেছে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, সিআইএ’র বিশেষ প্রশিক্ষণ পাওয়া কমান্ডো অনুসরণ করছিল তাদের। তাকে আটক করা হয়েছে।

যদিও আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো কমান্ডো বন্দী থাকার কথা অস্বীকার করে জানায়, তাদের হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে।

এ দিকে শেষ পর্যায়ে রয়েছে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সেনা প্রত্যাহার। আমেরিকা জানিয়েছে, ৩১ আগস্টের মধ্যে তারা প্রত্যাহার সম্পন্ন করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের গুটিয়ে নেওয়ার পর থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে তালিবান যোদ্ধাদের হামলা বেড়ে গেছে। কিছুদিন আগে তারা দেশটির ৮৫ শতাংশ অঞ্চল দখলে নেওয়ার দাবি করে। তবে কোনো কোনো সূত্র বলছে, আফগানিস্তানের ৪০০ জেলার এক-তৃতীয়াংশে তালিবানদের দখলে চলে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত