চীন থেকে সিনোফার্মের আরও দেড় কোটি ডোজ করোনা টিকা কিনছে সরকার। এই টিকা আগের চুক্তিপত্রে উল্লিখিত দামের চেয়ে আরও কম হবে। গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে অনলাইন ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা চায়নার সিনোফার্ম থেকে ভ্যাকসিন কিনব ১৫ মিলিয়ন ডোজ, সেটির আমরা অনুমোদন দিয়েছি।’
সিনোফার্ম থেকে ভ্যাকসিন কেনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আগের তুলনায় কম প্রাইজে (দাম) কিনছি। আগে যে প্রাইজ দিয়েছিলাম তার থেকেও কমে পাচ্ছি। এটার জন্য আমরা আগে একবার পেছনে পড়ে গিয়েছিলাম, আবারও পেছনে পড়ার সম্ভাবনা আছে। এই পারচেজগুলো সিলেকটিভ পারচেজ। এগুলোর সম্পর্কে টেকনিক্যাল ডিটেইলস আপনাদের (সাংবাদিক) বলতে পারি না এবং বলাও সম্ভব হচ্ছে না। আমার বিশ্বাস আপনারা এটা বুঝবেন এবং আমাদের সঙ্গে কো-অপারেশন করবেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বলতে পারবে ঠিক কোন সময়ে এই টিকা আসবে। এটা নিয়ে সব কিছু করা হয়েছে। বিস্তারিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানতে পারবেন।’
গত ২৭ মে চীনের সিনোফার্মের তৈরি দেড় কোটি ডোজ সার্স কোভ-২ টিকা সরাসরি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছিল সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মধ্যে ২০ লাখ ডোজ দেশে এসে পৌঁছেছে। এ ছাড়া উপহার হিসেবে চীনের কাছ থেকে সিনোফার্মের ১১ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শামসুল আরেফিন বলেন, ‘কিছু নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট আছে, যার সবকিছু বলা যায় না। ১৫ মিলিয়ন ভ্যাকসিন আমরা পাব তবে সেটা আগের চেয়ে কম দামে। আগে সিনোফার্মের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল ১৫ মিলিয়ন। এর মধ্যে ২ মিলিয়ন তারা আমাদের উপহার হিসেবে দিয়েছে। যেহেতু ২ মিলিয়ন উপহার দিয়েছে সেজন্য তারা আরও ২ মিলিয়ন নতুন করে যোগ করে ১৫ মিলিয়ন ভ্যাকসিন দিচ্ছে। নতুন করে আমরা ১৫ মিলিয়ন ভ্যাকসিন পাচ্ছি আগের তুলনায় কম দামে।’
জানা গেছে, গতকালের ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ঔষধাগার কর্র্তৃক চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম ইন্টারন্যাশনাল থেকে চুক্তিবদ্ধ ১৫ মিলিয়ন ডোজের মধ্যে অবশিষ্ট ১৩ মিলিয়ন ডোজ এবং নতুন প্রস্তাবিত ২ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন, সাকুল্যে ১৫ মিলিয়ন ডোজ পূর্বের চুক্তিপত্রের উল্লিখিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে সিনোফার্ম ভ্যাকসিন সাপ্লিমেন্ট এগ্রিমেন্ট-১-এর আওতায় সরবরাহ এবং কভিড-১৯ মোকাবিলায় জরুরি প্রয়োজন মেটানোর জন্য ১৫ মিলিয়ন ডোজের অতিরিক্ত ভ্যাকসিন প্রয়োজন হলে সরবরাহের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
স্পট মার্কেট থেকে এলএমজি আমদানির অনুমতি : সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি করা হয়। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলা কর্র্তৃক সুইজারল্যান্ডের এম/এস এওটি ট্রেডিং এজির কাছ থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি ৪৩৬ কোটি ৪৭ লাখ ৬৪ হাজার ২০৫ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতি ইউনিটের দাম পড়েছে ১৩ দশমিক ০৬৮ ডলার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীন এসেননিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের তৃতীয় শাখা কারখানা স্থাপন প্রকল্পে ভেরিয়েশন বাবদ ৩ কোটি ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৩৭৬ টাকা ব্যয় হ্রাস করে ৯৯ কোটি ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৬১টাকার এম/এস বাংলাদেশ ফাউন্ডারি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের সঙ্গে সংশোধিত ক্রয় চুক্তি সম্পাদনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নিজেই করতে পারবে, এটি আমাদের কাছে আনার প্রয়োজন নেই। তারা না বুঝে আমাদের এখানে নিয়ে এসেছে। মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে ক্ষমতা দেওয়া আছে, সেজন্য এটি আমরা ফেরত দিয়েছি।’
তিনি বলেন, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভারতের আরআইটিইএস ও অ্যারভি অ্যাসোসিয়েটসের জয়েন ভেঞ্চারকে ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৩৩৪ টাকায় নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন, বিসিআইসির নরসিংদীর ‘ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার’ প্রকল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য মিসরের আরব কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্স মোহাররম বাখুয়াম, মিসরের ন্যাশনাল মেইনটেন্যান্স করপোরেশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস এবং ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনসাল্টস বাংলাদেশকে ৩৯ কোটি ৭৬ লাখ ৮৯ হাজার ৪৩৩ টাকায় নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্রয় সংক্রান্ত প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের চারটি, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের একটি, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের দুটি এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবনা ছিল। ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদিত আটটি প্রস্তাবের মধ্যে সাতটিতে মোট অর্থের পরিমাণ ৪ হাজার ৫৪১ কোটি ২৮ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯৭ টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি থেকে ব্যয় হবে ৭৫২ কোটি ৬৫ লাখ ২০ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং দেশীয় ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক ভারত থেকে ঋণ ৩ হাজার ৭৮৮ কোটি ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৪ টাকা।
