ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পটুয়াখালীতে নিম্নআয়ের মানুষের ভাগ্যে জুটছে না টিসিবির কম মূল্যের পণ্য। যথাযথ তদারকি না থাকায় নিম্নআয়ের সিংহভাগ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে টিসিবির সুবিধা থেকে।
ডিলারদের বিরুদ্ধে সাধারণের অভিযোগ, টিসিবির নিত্যপণ্য সামগ্রী লোপাটের। অপরদিকে, ডিলাররা বলছেন, প্রাপ্যতার বিপরীতে চাহিদা বেশি। ফলে ডিপো থেকে পণ্যসামগ্রী আনার পর ট্রাকে করে বিক্রির এক ঘণ্টায় সব পণ্য বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন তাদের কঠোর অবস্থানের কথা জানালেও টিসিবির নীতিমালা অনুসরণ করছেন ডিলাররা।
টিসিবি সূত্রে জানা জায়, পটুয়াখালীতে ৩১জন টিসিবির ডিলার রয়েছেন। ডিলারদের ট্রাক সেলে স্ব স্ব উপজেলা প্রশাসন এ কার্যক্রম তদারকি করবে। শৃঙ্খলা রক্ষায় নিম্নআয়ের মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ন্যায্যমূল্যে পণ্যসামগ্রী কিনবে। যাতে দেশে দ্রব্যমূল্যের বাজার স্থিতিশীল থাকে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু জেলায় সিংহভাগ টিসিবির ডিলার রাজনৈতিক ক্ষমতা ও দাপটে নিয়োগ পেয়েছেন। নজরদারির দুর্বলতায় টিসিবির নীতিমালা অনুসরণ করছেন না এসব ডিলার।
অধিকাংশ ডিলার গত এক সপ্তাহে মাত্র দু’এক ঘণ্টার জন্য টিসিবি পণ্য বিক্রি করেই পণ্য শেষ হওয়ার কথা বলছেন। অথচ সেই দু’এক ঘণ্টার লাইনে দাঁড়িয়ে কেউ ডাল পেয়েছেন তো চিনি পাননি। চিনি পেয়েছেন তো তেল পাননি- এমনই অভিযোগ নিম্নআয়ের মানুষের। ফলে ডিলারদের ভর্তুকি দিয়েও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে টিসিবির দ্রব্যসামগ্রী বিক্রি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
টিসিবির বরিশাল সহকারী কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, বরিশাল বিভাগে টিসিবির ২০২ জন ডিলার রয়েছেন। ট্রাল সেল কোটা রয়েছে ২৪টা। বিভাগীয় শহরে প্রতিদিন ৫টি ট্রাক সেল, জেলা শহরে ২টি করে এবং বাকিগুলো উপজেলা ও পৌরশহরে পর্যায়ক্রমে ট্রাক সেলে নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে বিক্রি করবে। যাতে প্রতি লিটার তেল ১শ’ টাকা, কেজিপ্রতি চিনি ৫৫ টাকা, ডাল ৫৫ টাকা হারে কিনতে পারেন নিম্নআয়ের মানুষ।
কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের জারিকারক আবুল হোসেন মোল্লা ও নৈশপ্রহরী মামুন জানান, ১০ জুলাই টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে শুধুমাত্র ৫ লিটার তেল কিনতে পেরেছেন। ডাল, চিনি তারা পাননি।
কলাপাড়া ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, টিসিবি ডিলারদের নীতিমালা অনুসরণ করে পণ্য বিক্রির জন্য বলা হয়েছে। দু’এক দিনের মধ্যেই ডিলারদের আবারও ডেকে বিষয়টি বলা হবে। টিসিবি পণ্য বিক্রিতে কোনো রকমের অনিয়ম হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
