স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, শিক্ষার্থীদের টিকাকরণের আওতায় আনতে টিকাগ্রহণের বয়সসীমা ১৮ বছর করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি এ ব্যাপারে সরকারের কাছে পরামর্শ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। শিগগিরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের কভিড-১৯ আইসিইউ এবং ওপিডি শেড উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চীন থেকে সম্প্রতি ২০ লাখ টিকা এসেছে। এই টিকার বাইরে দেশটি থেকে আরও দেড় কোটি টিকা আসবে। পাশাপাশি কোভ্যাক্স থেকে চলতি মাসেই অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও মডার্নার টিকা আসবে।
জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে বর্তমানে সব বিভাগেই সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। কিছু জেলায় স্থিতিশীল। টানা লকডাউনের ফলে বর্তমানে সংক্রমণের হার কিছুটা কমেছে। আমরা সাত দিনের জন্য সবকিছু খুলে দিয়েছি, শিথিল করেছি। কিন্তু এই সময়ে যদি ঘোরাঘুরি করা হয়, জনসমাগম বাড়ে, আমরা মাস্ক না পরি তাহলে আবারও সংক্রমণ বাড়বে। গ্রামের আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে আনতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগীদের চিহ্নিত করে হাসপাতালে আনা হবে। বর্তমানের মৃতদের বেশিরভাগই পঞ্চাশোর্ধ্ব ও সংক্রমিতদের অধিকাংশই পঞ্চাশের নিচে।’
তিনি বলেন, সারা দেশের ১৫ হাজার করোনা শয্যায় ৭৫ শতাংশ এখন রোগীতে পূর্ণ। একই অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, মাস্ক পরতে হবে। তবেই সংক্রমণ কমবে। সংক্রমণের তীব্রতা না কমাতে পারলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত হবে। অন্যান্য খাতেও প্রভাব পড়বে।
এ সময় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্রোরা, অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
