পটুয়াখালীর লেবুখালী ফেরিঘাটে তুচ্ছ ঘটনায় এক দোকানিকে মারধরের জেরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজনকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে ঢাকাফেরত পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলকে লেবুখালী ফেরিঘাটে স্বাগত জানাতে জেলা শহর ও বাউফল থেকে দুই শতাধিক কর্মী-সমর্থক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে ফেরিঘাটে অবস্থান নেন। সেখানে কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন দোকানপাটে চা-সিগারেট পান ও জটলা করছিলেন। ওই সময় বাদল নামে এক কর্মী সিগারেট ধরাতে লাইটার চেয়ে না পেয়ে দোকানি সোহরাব প্যাদাকে মারধর করেন। আশপাশের দোকানদার ও স্থানীয়রা এর প্রতিবাদ করেন। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
আহত দোকানি সোহরাব প্যাদার (৬৫) অভিযোগ, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে, পিটিয়ে ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের জখম করেছে। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে তিনিসহ মো. সাবু, বজলু প্যাদা, রাজিব, বাহার খাঁ, মোহন শরীফ, আলকাচ মাস্টার, আল-আমীনসহ দুপক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। খবর পেয়ে এলাকাবাসী ও পুলিশ ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ হামলাকারীদের চারটি মোটরসাইকেল জব্দ করলেও কাউকে আটক করতে পারেনি।
দুমকি থানার এসআই সিদ্দিক জানান, লেবুখালী ফেরিঘাটে দুপক্ষের হামলা-সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত চারটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল বলেন, পটুয়াখালী জেলা শহর ও বাউফল উপজেলার নেতাকর্মীরা আমাকে সেখানে স্বাগত জানাতে এসেছিল। সেখানে এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক। তবে ওই ঘটনায় বাউফলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয়।
