ইমান সুদৃঢ় করার উপায়

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ১১:৫০ পিএম

কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আর প্রত্যেকের উচিত চিন্তা করে দেখা; সে আগামীকালের (পরকালের) জন্য কী প্রেরণ করেছে। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তোমরা যা করো নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।’ সুরা হাশর : ১৮

বর্ণিত আয়াতে যে চিন্তার কথা বলা হয়েছে এটাকে কোরআনের তাফসিরবিদরা ‘মুহাসাবাতুন নফস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।’ এর অর্থ হলো ‘নিজ আত্মার হিসাব গ্রহণ করা।’ অর্থাৎ নিজেকে নিজের কাজ ও আমলের বিষয়ে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করা, নিজেকে নিয়ে নিজে সমালোচনা করা। যেটাকে সহজভাবে বলা হয় আত্মসমালোচনা।

বুজুর্গ আলেমদের মতে, আত্মসমালোচনার অর্থ হলো সুচিন্তিত ও পরিকল্পিতভাবে কোনো কাজ করা কিংবা পরিহার করা। অন্যভাবে চিন্তা করলে, নিজেকে নিয়ে আলোচনা করা, নিজের কাজের হিসাব নেওয়া। কারণ, কেয়ামতের দিন অবশ্যই সবাইকে হিসাবের মুখোমুখি হতে হবে। তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত আত্মসমালোচনা করা। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সেদিন তোমাদের উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোনো গোপনীয়তাই গোপন থাকবে না।’ সুরা হাক্কাহ : ১৮

আত্মসমালোচনার মাধ্যমে মানুষ নিজের দুর্বলতা ও সক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারে। মুমিনের ইমান সুদৃঢ় হয়। কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বেঁচে থাকতে আত্মসমালোচনার বিকল্প নেই। আত্মসমালোচনার মধ্য দিয়ে যখন পরকালের জবাবদিহির উপলব্ধি অন্তরে অনুভব হয়, তখন অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটে না। এর মাধ্যমে প্রতিদিনের ভুলগুলো অনুধাবন করে তা থেকে বেঁচে থাকা সহজতর হয়ে যায়। হজরত হাসান বসরি (রহ.) বলেন, ‘মুমিনকে স্বীয় আত্মার পরিচালক হিসেবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আত্মসমালোচনা করতে হবে। যারা দুনিয়ায় আত্মসমালোচনা করবে, কেয়ামতের দিন অবশ্যই তাদের হিসাব হালকা হবে। আর যারা এ থেকে বিরত থাকবে, কেয়ামতের দিন তাদের হিসাব কঠিন হবে।’ ইগাছাতুল লাহফান

আত্মসমালোচনা দুই পদ্ধতিতে করা যায়। প্রথমত, কোনো কাজ করার আগে চিন্তা করা। কাজটি আল্লাহর দেওয়া বিধি মোতাবেক হচ্ছে কি না? কিংবা শরিয়তের কোনো বিষয় জড়িত না থাকলে অন্তত এটা ভাবা, কাজটি মানুষের জন্য উত্তম নাকি ক্ষতিকর?

দ্বিতীয়ত, কাজ করার পর ভাবা। সঠিকভাবে কাজটি আদায় করতে পেরেছি তো? ওই কাজে আরোপিত বিধানগুলো যথাযথভাবে আদায় করেছি তো? না হলে, ভুলত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করা। বলা হয়, ‘সবচেয়ে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বা বিচক্ষণ মানুষ হলো ওই ব্যক্তি, যে নিজের দোষত্রুটি দেখে।’ তাই নিজেকে নিজের আলোচ্য বিষয় বানিয়ে নির্জনে চিন্তা করতে হবে। তাতে অপরাধ, ভুল ও পাপের মাত্রা কমতে থাকবে। অসৎ কাজের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হবে।

ইসলামি স্কলাররা বলেছেন, অসৎ কাজ করতে করতে আত্মা অনুভূতিহীন নীতিবিবর্জিত সিদ্ধান্তের দিকে বেশি ধাবিত হয়। তখন নিজেকে সংশোধনের উপলব্ধি জাগ্রত হয় না। এটা ভুল পথে চলার আলামত। যেসব কাজ মানুষকে মৃত্যু ও পরকালের কথা ভুলিয়ে রাখে, তা বর্জন করতে হবে। সেই সঙ্গে নিজের ভেতরে আল্লাহভীরুতা জন্মাতে হবে। পরকালের হিসাবনিকাশের ব্যাপারে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর কথা স্মরণ, কবরের কথা চিন্তা, জাহান্নামের কথা বেশি স্মরণ করা এবং নবী-রাসুলদের জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে। এসব আমল মানুষের আত্মসমালোচনার পথ সুপ্রসন্ন করে।

আত্মসমালোচনার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথ খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে যখন তাদের শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা স্পর্শ করে তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। তখনই তাদের দৃষ্টি খুলে যায়।’ সুরা আরাফ : ২০১

আত্মার উন্নয়ন সম্পাদনের একমাত্র উপায় আত্মসমালোচনা। নিজেকে দায়িত্বশীল ভূমিকায় দাঁড় করানো। জবাবদিহির কথা মাথায় রেখে কাজ করা। সৎ কাজে নিজের দেহ, আত্মা সুপ্রশস্ত করা ও মন্দকাজে নিজেকে গুটিয়ে রাখা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত