‘অ্যাসাইনমেন্টের প্রশ্ন ৩ টাকা ও উত্তরপত্র ১০ টাকা। এখানে দশম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্টের প্রশ্ন উত্তরসহকারে পাওয়া যায়।’ এভাবেই ফেস্টুন ঝুলিয়ে ফটোকপির দোকানে বিক্রি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের স্কুলের অ্যাসাইনমেন্ট। গতকাল রবিবার চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের বাদামতলা এলাকায় ‘এসএস কম্পিউটার অ্যান্ড ডিজিটাল স্টুডিও’ নামের একটি দোকানে এমন ফেস্টুন ঝুলতে দেখা যায়। অনেক শিক্ষার্থীকেই এ সময় দোকান থেকে অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুলশিক্ষার্থী জানায়, ‘দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ, কোচিংও বন্ধ, বই নিয়ে টেবিলে বসা হয় না। তাই সবার দেখাদেখি আমিও দোকান থেকে উত্তরপত্র কিনে ঘরে বসে লিখে স্কুলে জমা দিচ্ছি।’
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক অভিভাবকও তাদের ছেলেমেয়েদের অ্যাসাইনমেন্টগুলো লিখে দিচ্ছেন।
জানতে চাইলে এসএস কম্পিউটার অ্যান্ড ডিজিটাল স্টুডিওর স্বত্বাধিকারী মো. সাজ্জাদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা অ্যাসাইনমেন্টের প্রশ্ন ফটোকপি করতে আসলে সেখান থেকে এক কপি রেখে দিই। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তরপত্র তৈরি করে তা বিক্রি করি। এভাবে অনেকেই বিক্রি করছে।’ উপজেলা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সপ্তাহে এক দিন শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ করে জমা দেবে। আগামী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাও অ্যাসাইনমেন্ট পদ্ধতিতে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়নে সরকার এমন অ্যাসাইনমেন্ট পদ্ধতি চালু করলেও এর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে খোদ অভিভাবক মহলে।
অভিভাবকরা জানান, করোনায় স্কুল ও কোচিং বন্ধ থাকায় পড়াশোনায় ছেদ পড়েছে। অনেকের বাসায় গৃহশিক্ষকও নেই। তাই বাধ্য হয়েই তারা কম্পিউটারের দোকান থেকে উত্তরপত্র সংগ্রহ করছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস হোসেন বলেন, ‘ফটোকপির দোকানে অ্যাসাইনমেন্টের উত্তরপত্র সরবরাহের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে নবম ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম গতকাল স্থগিত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।
