জনতার বিদ্যুৎ বিল বন্ধে বিপাকে জান্তা

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ১২:২৫ এএম

মিয়ানমারে জান্তার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন কায়দায় প্রতিবাদ করছে গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীরা।

জান্তাবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ বিল দেওয়া বন্ধ করেছে তারা। আর এতে বিদ্যুৎ খাতে রাজস্ব আদায় কমে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। দেশটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়ে শহরগুলোতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডি সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকেই প্রতিবাদ হিসেবে জনগণের একটি বড় অংশ বিদ্যুৎ বিল দেওয়া বন্ধ করে দেয়। তাতে আগের বছরের তুলনায় গত ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটির বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।

মিয়ানমার নিয়ে কাজ করা অর্থনীতিবিদদের গ্রুপ ইন্ডিপেনডেন্ট ইকোনমিস্ট ফর মিয়ানমার-আইইএমের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনেও এ চিত্র উঠে এসেছে।

আইইএমের প্রতিবেদনে বলা হয়, জান্তা সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি মন্ত্রণালয় বিদ্যমান অবকাঠামো চালিয়ে নিতে ধুঁকছে। সংকটের মধ্যেই তাদের বিদ্যুৎ খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে হওয়া চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলতে হচ্ছে। নতুন প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। জান্তা সরকার জ¦ালানি খাতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারও এনেছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল মিটার, বিদ্যুৎ যাওয়ার আগের সতর্ক ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এদিকে জান্তাবিরোধী গণবিক্ষোভে অংশগ্রহণের কারণে চাকরিচ্যুতি এবং স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি মন্ত্রণালয় ৪ হাজার ৫৮ জন কর্মী হারিয়েছে। দেশটিতে বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘস্থায়ী এবং তা অনেকটা ‘স্বাভাবিক ঘটনা’ হয়ে উঠছে বলে আইইএমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক কর্মকর্তা জানান, জান্তা সরকার ক্ষমতা দখলের আগে মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৫০ হাজার কর্মী ছিল। এর মধ্যে চার হাজার কর্মীর বিদায়ের বড় প্রভাব রয়েছে। কারণ এসব কর্মীর মধ্যে মধ্যমসারির ব্যবস্থাপক, টেকনিক্যাল এবং রাজস্ব সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা রয়েছেন। আইইএমের প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাস, নতুন গ্যাস ক্ষেত্রের ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ বিল দেওয়া বন্ধ হওয়ায় সরকার কয়েকশ কোটি ডলার রাজস্ব হারিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত